জলবায়ু প্রকৌশল: এর সংস্কৃতি ও নৈতিকতার গোপন রহস্য উন্মোচন করুন

webmaster

기후 엔지니어링의 문화적 맥락과 윤리 - Here are three detailed image generation prompts in English, focusing on the themes of climate engin...

আহ্, এই জলবায়ু পরিবর্তন! ভাবতেই কেমন যেন মনটা অস্থির হয়ে ওঠে, তাই না? সম্প্রতি আমার মাথায় ঘুরছে একটা নতুন ভাবনা – জলবায়ু প্রকৌশল। মনে আছে, ছোটবেলায় যখন কোনো কঠিন সমস্যায় পড়তাম, তখন ভাবতাম ইসস, যদি কোনো যাদুর কাঠি দিয়ে সব ঠিক করে দিতে পারতাম!

기후 엔지니어링의 문화적 맥락과 윤리 관련 이미지 1

এখন এই জলবায়ু প্রকৌশল অনেকটা সেরকমই এক আধুনিক যাদুর কাঠির মতো লাগছে, যা দিয়ে আমরা নাকি পৃথিবীর আবহাওয়াকে নিজেদের মতো করে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবো। কিন্তু আসলেই কি তা সম্ভব?

এটা শুনতে যতটা রোমাঞ্চকর, এর পেছনের গল্পগুলো তার থেকেও বেশি জটিল আর গভীর।আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, যখনই কোনো বড় প্রযুক্তির কথা আসে, তার সাথে জড়িয়ে থাকে সমাজের নানা স্তরের মানুষের ভাবনা আর মূল্যবোধ। এই জলবায়ু প্রকৌশল শুধু বিজ্ঞানের বিষয় নয়, এটা আমাদের সংস্কৃতি, আমাদের নীতিবোধ আর ভবিষ্যতের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতারও একটা পরীক্ষা। কিছু বিজ্ঞানী যখন আকাশের মেঘে কণা ছড়িয়ে বা সমুদ্রের গভীরে কিছু পরিবর্তন এনে পৃথিবীকে শীতল করার কথা ভাবছেন, তখন প্রশ্ন জাগছে, এর নৈতিক দিকটা কী?

আমরা কি প্রকৃতির উপর এতটা হস্তক্ষেপ করার অধিকার রাখি? এর সাংস্কৃতিক প্রভাব কী হবে, যখন পৃথিবীর এক অংশের মানুষ হয়তো ভাবছে এটা তাদের জন্য ভালো, কিন্তু অন্য অংশের মানুষের জন্য তা বিপর্যয় ডেকে আনছে?

এই বিষয়গুলো নিয়ে আমার অনেক কৌতূহল ছিল, তাই আমি অনেক গবেষণা করেছি। এর ভালো-মন্দ, সুবিধা-অসুবিধা, আর সবচেয়ে বড় কথা, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এর থেকে কী শিখবে, সেদিকেও আমার দৃষ্টি ছিল। চলুন, এই জটিল কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে আমরা বিস্তারিতভাবে জেনে নিই!

জলবায়ু প্রকৌশল: কী এই আধুনিক ‘জাদুকাঠি’?

যখন প্রকৃতিকে ‘মেরামত’ করার কথা ওঠে

এটা শুনতে যতটা রোমাঞ্চকর, এর পেছনের গল্পগুলো তার থেকেও বেশি জটিল আর গভীর। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, যখনই কোনো বড় প্রযুক্তির কথা আসে, তার সাথে জড়িয়ে থাকে সমাজের নানা স্তরের মানুষের ভাবনা আর মূল্যবোধ। এই জলবায়ু প্রকৌশল শুধু বিজ্ঞানের বিষয় নয়, এটা আমাদের সংস্কৃতি, আমাদের নীতিবোধ আর ভবিষ্যতের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতারও একটা পরীক্ষা। কিছু বিজ্ঞানী যখন আকাশের মেঘে কণা ছড়িয়ে বা সমুদ্রের গভীরে কিছু পরিবর্তন এনে পৃথিবীকে শীতল করার কথা ভাবছেন, তখন প্রশ্ন জাগছে, এর নৈতিক দিকটা কী?

এই বিষয়গুলো নিয়ে আমার অনেক কৌতূহল ছিল, তাই আমি অনেক গবেষণা করেছি। এর ভালো-মন্দ, সুবিধা-অসুবিধা, আর সবচেয়ে বড় কথা, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এর থেকে কী শিখবে, সেদিকেও আমার দৃষ্টি ছিল। চলুন, এই জটিল কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে আমরা বিস্তারিতভাবে জেনে নিই!

বিজ্ঞান ও মানুষের আকাঙ্ক্ষার সেতুবন্ধন

জলবায়ু প্রকৌশল মানে হচ্ছে পৃথিবীর জলবায়ু ব্যবস্থায় ইচ্ছাকৃতভাবে বড় আকারের হস্তক্ষেপ করা, যাতে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব কমানো যায়। আমার মনে আছে একবার আমি একটা ডকুমেন্টারি দেখছিলাম, যেখানে দেখানো হচ্ছিল কিভাবে মানুষ মরুভূমিকে সবুজে পরিণত করার চেষ্টা করছে। তখন আমার মনে হয়েছিল, যদি ছোট ছোট পরিবর্তন সম্ভব হয়, তাহলে পুরো পৃথিবীর আবহাওয়া নিয়ে কেন নয়?

এই প্রকৌশলের মূল দুটি ভাগ আছে – একটি হলো সৌর বিকিরণ ব্যবস্থাপনা (Solar Radiation Management বা SRM), যেখানে সূর্যের আলো পৃথিবীতে পৌঁছানোর আগেই কিছু অংশকে মহাকাশে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। আরেকটা হলো কার্বন ডাই অক্সাইড অপসারণ (Carbon Dioxide Removal বা CDR), যেখানে বায়ুমণ্ডল থেকে সরাসরি কার্বন ডাই অক্সাইড সরিয়ে নেওয়া হয়। প্রতিটি পদ্ধতিরই নিজস্ব জটিলতা এবং সম্ভাবনা আছে। যেমন, SRM এর মাধ্যমে দ্রুত তাপমাত্রা কমানো সম্ভব, কিন্তু এটি গ্রিনহাউস গ্যাসের মূল সমস্যা সমাধান করে না। আবার CDR পদ্ধতি দীর্ঘমেয়াদী সমাধান দিলেও এর বাস্তবায়ন অনেক সময়সাপেক্ষ এবং ব্যয়বহুল। এই দুটি পদ্ধতির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা এবং কোনটা কখন ব্যবহার করা উচিত, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যেও ব্যাপক বিতর্ক আছে। আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়, প্রকৃতির উপর এমন বিশাল আকারের পরীক্ষা চালানোর আগে আমাদের আরও অনেক বেশি ভাবতে হবে এবং এর সম্ভাব্য সব প্রভাব নিয়ে বিশদ গবেষণা করতে হবে। কারণ একবার কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নিলে তার ফল প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে বয়ে বেড়াতে হতে পারে।

প্রকৃতির সাথে বোঝাপড়া: উপকার নাকি ঝুঁকি?

একদিকে দ্রুত সমাধান, অন্যদিকে অজানা বিপদ

জলবায়ু প্রকৌশলের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এটি জলবায়ু পরিবর্তনের দ্রুত সমাধান দিতে পারে বলে মনে হয়। যখন চরম আবহাওয়ার ঘটনাগুলো আমাদের জীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলছে, তখন একটা দ্রুত সমাধানের কথা শুনলে কার না ভালো লাগে?

আমি নিজেও অনেক সময় ভাবি, যদি কোনোভাবে আমরা প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে নিজেদের বাঁচাতে পারতাম! সৌর বিকিরণ ব্যবস্থাপনা (SRM) এর মাধ্যমে দ্রুত পৃথিবীর তাপমাত্রা কমানো সম্ভব, যা বিশ্বের অনেক অঞ্চলে তাপপ্রবাহ এবং খরা কমাতে সাহায্য করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে অ্যারোসল ইনজেকশন দিলে তা সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে পৃথিবীকে শীতল করতে পারে, অনেকটা বড় আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের পর যেমনটা হয়। এতে আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে, আমরা যেন প্রকৃতির উপর কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণ আনতে পারছি। কিন্তু এই আপাত সমাধান আমাদের জন্য নতুন বিপদ ডেকে আনতে পারে। প্রকৃতির বিশাল এবং জটিল ব্যবস্থায় সামান্য পরিবর্তনও অপ্রত্যাশিত ও ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে।

Advertisement

প্রকৃতির অদেখা প্রতিক্রিয়া এবং মানুষের অজ্ঞতা

আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, যখন আমরা কোনো কিছুকে বেশি নিয়ন্ত্রণ করতে যাই, তখন প্রায়শই এর অপ্রত্যাশিত ফল ভোগ করতে হয়। জলবায়ু প্রকৌশলের ক্ষেত্রেও এমনটা হতে পারে। বিজ্ঞানীরা বলছেন যে SRM প্রয়োগ করলে আঞ্চলিক আবহাওয়ার ধরন পাল্টে যেতে পারে, যা কিছু অঞ্চলে খরা বা বন্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। ধরুন, এশিয়া বা আফ্রিকার মৌসুমি বৃষ্টিপাত ব্যাহত হলো, তখন কোটি কোটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তায় বড় ধরনের সংকট দেখা দেবে। সমুদ্রের অম্লকরণও একটি বড় সমস্যা, যা এই প্রকৌশলের মাধ্যমে সরাসরি সমাধান করা যায় না। উপরন্তু, যদি কোনো কারণে এই প্রকৌশল হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে পৃথিবীর তাপমাত্রা দ্রুত বেড়ে গিয়ে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে, যাকে ‘টার্মিনেশন শক’ বলা হয়। আমার মনে হয়, প্রকৃতির উপর এত বড় পরীক্ষা চালানোর আগে আমাদের আরও অনেক বেশি বিনয়ী হওয়া উচিত এবং এর সম্ভাব্য সকল খারাপ দিকগুলো নিয়ে পুঙ্কাশুঙ্খ বিশ্লেষণ করা উচিত। আমরা প্রকৃতির অংশ, প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা আমাদের হয়তো নেই।

নৈতিকতার প্রশ্ন: কে করবে সিদ্ধান্ত?

প্রযুক্তির ক্ষমতা ও মানুষের দায়বদ্ধতা

জলবায়ু প্রকৌশল যখন প্রকৃতির উপর এত বড় প্রভাব ফেলার ক্ষমতা রাখে, তখন স্বাভাবিকভাবেই একটা বড় নৈতিক প্রশ্ন সামনে আসে: কে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেবে?

কে ঠিক করবে কোন দেশ বা অঞ্চল এর সুবিধা পাবে, আর কোনটা এর ক্ষতির শিকার হবে? আমার মনে আছে, একবার একটা গ্রামের পঞ্চায়েতে একটা ছোটখাটো বাঁধ নির্মাণ নিয়ে তুমুল বিতর্ক হয়েছিল। সেখানে গ্রামের এক অংশের মানুষের উপকার হলেও অন্য অংশের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। একটা গ্রামের ছোট ঘটনার যদি এত নৈতিক বিতর্ক থাকে, তাহলে পৃথিবীর মতো বিশাল ক্ষেত্রে যেখানে কোটি কোটি মানুষের জীবন জড়িত, সেখানে কেমন জটিলতা হবে ভাবুন!

এই প্রযুক্তি যদি ধনী দেশগুলো নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে, আর তার ফল গরিব দেশগুলোকে ভোগ করতে হয়, তাহলে তা এক নতুন ধরনের বৈশ্বিক বৈষম্য তৈরি করবে। আমরা কি সেটার জন্য প্রস্তুত?

এটা শুধু বৈজ্ঞানিক প্রশ্ন নয়, এটা মানবাধিকার এবং বিশ্ব ন্যায়বিচারের প্রশ্নও। এই প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং প্রয়োগের ক্ষেত্রে একটি স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক এবং ন্যায়সঙ্গত আন্তর্জাতিক কাঠামোর প্রয়োজন, যেখানে সকল দেশের মতামত এবং স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

ন্যায়বিচার ও আন্তঃপ্রজন্মগত সমতা

জলবায়ু প্রকৌশল নিয়ে কথা বলার সময়, আমার মনে হয় আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। আমরা যে পৃথিবীতে বাস করছি, তার উপর হস্তক্ষেপ করার অধিকার আমাদের কতটা আছে, যদি তার দীর্ঘমেয়াদী ফল আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে ভোগ করতে হয়?

একবার ভাবুন, যদি আমরা আজকের সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে এমন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করি যা ভবিষ্যতের জন্য আরও বড় সংকট তৈরি করে, তাহলে সেটা কেমন হবে? এইটা কি আমরা আমাদের সন্তানদের জন্য একটা ভাঙা পৃথিবী রেখে যাচ্ছি না?

এই প্রযুক্তি ব্যবহারের নৈতিকতার প্রশ্নে আন্তঃপ্রজন্মগত সমতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে আমাদের নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো কেবল আমাদের বর্তমানের জন্য নয়, বরং ভবিষ্যতের প্রতিটি প্রজন্মের জন্যও কল্যাণকর হয়। জলবায়ু প্রকৌশলের সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে এখনও অনেক অনিশ্চয়তা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, একটি নৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আমাদের কেবল বৈজ্ঞানিক তথ্যই নয়, বরং মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতাকেও বিবেচনায় নিতে হবে।

সমাজ ও সংস্কৃতির আয়না: জলবায়ু প্রযুক্তির প্রভাব

প্রযুক্তির সাথে বদলে যাওয়া সমাজের চিত্র

জলবায়ু প্রকৌশল শুধুমাত্র আবহাওয়াকে প্রভাবিত করবে না, এটি আমাদের সমাজের কাঠামো এবং সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের উপরও গভীর প্রভাব ফেলবে। যখন আমরা প্রকৃতির উপর এমন বিশাল আকারের নিয়ন্ত্রণ আরোপ করার কথা ভাবি, তখন আমাদের প্রাকৃতিক বিশ্বের প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিও বদলে যায়। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, যখন কোনো বড় প্রযুক্তি আসে, তখন মানুষের জীবনযাপন, বিশ্বাস এবং এমনকি তাদের দৈনন্দিন আচার-অনুষ্ঠানও পরিবর্তিত হয়। ধরুন, যদি SRM-এর মাধ্যমে আকাশের রঙ কিছুটা বদলে যায় বা সূর্যালোকের তীব্রতা কমে যায়, তাহলে পৃথিবীর বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের কাছে এর অর্থ কী হবে?

অনেক সংস্কৃতিতে সূর্য, আকাশ এবং আবহাওয়া ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক গুরুত্ব বহন করে। প্রকৃতির উপর মানুষের এই ধরনের হস্তক্ষেপ কি তাদের বিশ্বাসে আঘাত করবে না?

বিভিন্ন জনগোষ্ঠী আবহাওয়াকে দেবদেবী বা প্রাকৃতিক শক্তির প্রকাশ হিসেবে দেখে থাকে। এই প্রযুক্তির ব্যবহার তাদের কাছে কী বার্তা দেবে? এই বিষয়গুলো আমাদের সংস্কৃতি ও সমাজের গভীরতম স্তরে প্রভাব ফেলবে এবং একটি নতুন বিশ্ব দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করবে।

স্থানীয় জ্ঞান ও বৈশ্বিক বিতর্কের মেলবন্ধন

জলবায়ু প্রকৌশল নিয়ে যখন আলোচনা হয়, তখন প্রায়শই প্রযুক্তিগত এবং বৈজ্ঞানিক দিকগুলো প্রাধান্য পায়। কিন্তু আমি মনে করি, স্থানীয় সংস্কৃতি এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জ্ঞানকেও এই আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে মানুষ যুগ যুগ ধরে প্রকৃতির সাথে তাল মিলিয়ে জীবনযাপন করেছে এবং তাদের নিজস্ব জ্ঞান ও ঐতিহ্য রয়েছে যা প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করে। একবার আমি সুন্দরবনের এক গ্রামে গিয়েছিলাম, সেখানকার মানুষরা কিভাবে প্রকৃতির সাথে একাত্ম হয়ে থাকে তা দেখে মুগ্ধ হয়েছিলাম। তারা প্রকৃতির প্রতিটি পরিবর্তনের সাথে কতটা সংবেদনশীল!

তাদের এই জ্ঞানকে উপেক্ষা করে আমরা কি কোনো বড় সিদ্ধান্ত নিতে পারি? জলবায়ু প্রকৌশলের কোনো প্রকল্পের সম্ভাব্য স্থানীয় প্রভাবগুলো নিয়ে তাদের মতামত শোনা এবং সেগুলোকে বিবেচনায় নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এই প্রযুক্তি নিয়ে বৈশ্বিক আলোচনায় বিভিন্ন দেশের এবং সংস্কৃতির মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যাতে কোনো একটি প্রভাবশালী অংশের সিদ্ধান্ত পুরো বিশ্বের উপর চাপিয়ে দেওয়া না হয়। কারণ প্রকৃতির উপর হস্তক্ষেপের ফলাফল সব জায়গার মানুষের উপরই পড়বে।

Advertisement

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দায়বদ্ধতা: আমাদের ভূমিকা

আজকের সিদ্ধান্ত, ভবিষ্যতের পৃথিবী

আমরা এখন যে সিদ্ধান্তগুলো নিচ্ছি, সেগুলো আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কেমন পৃথিবী তৈরি করবে, তা নিয়ে আমাকে প্রায়শই ভাবতে হয়। জলবায়ু প্রকৌশল একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হতে পারে, কিন্তু প্রতিটি শক্তিশালী হাতিয়ারের ভুল ব্যবহার বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। আমার মনে আছে, ছোটবেলায় যখন কোনো খেলনা ভাঙতাম, তখন বাবা-মা বলতেন, “সাবধানে ব্যবহার করছ না কেন, এর ফল তোমাকেই ভুগতে হবে!” প্রকৃতির ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। আমরা যদি জলবায়ু প্রকৌশলকে একটি শর্টকাট হিসেবে ব্যবহার করি এবং গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানোর মূল সমস্যা থেকে সরে আসি, তাহলে আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে একটি বড় বোঝা চাপিয়ে দেব। তাদের জন্য আমরা একটি এমন পৃথিবী রেখে যাব যেখানে হয়তো জলবায়ু প্রকৌশল ছাড়া বাঁচা অসম্ভব হয়ে পড়বে, এবং সেই প্রযুক্তিরও নিজস্ব সমস্যা থাকবে। আমাদের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত নির্গমন কমানোর উপর জোর দেওয়া এবং টেকসই জীবনযাপনে উৎসাহিত করা।

শিক্ষা, সচেতনতা এবং সক্রিয় অংশগ্রহণ

기후 엔지니어링의 문화적 맥락과 윤리 관련 이미지 2
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি স্থিতিশীল পৃথিবী নিশ্চিত করতে হলে আমাদের সকলের সচেতনতা এবং সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। জলবায়ু প্রকৌশল সম্পর্কে সঠিক তথ্য সবার কাছে পৌঁছানো উচিত, যাতে মানুষ এর ভালো-মন্দ দিকগুলো সম্পর্কে জানতে পারে এবং একটি সুস্থ বিতর্কে অংশ নিতে পারে। আমার ব্লগে আমি সবসময় চেষ্টা করি এমন জটিল বিষয়গুলোকে সহজভাবে তুলে ধরতে, যাতে আমার পাঠকরা নিজেদের মতামত তৈরি করতে পারে। স্কুল-কলেজগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তন এবং এর সমাধানের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা উচিত, যাতে তরুণ প্রজন্ম এই বিষয়ে শিক্ষিত হয়। তাদের মধ্যে সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনার বিকাশ ঘটানো প্রয়োজন, যাতে তারা অন্ধভাবে কোনো প্রযুক্তি গ্রহণ না করে বরং প্রশ্ন করতে শেখে। আমাদের মনে রাখতে হবে, কেবল বৈজ্ঞানিক সমাধানই যথেষ্ট নয়, সামাজিক এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছাও অপরিহার্য। আমি বিশ্বাস করি, সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং সঠিক নেতৃত্বের মাধ্যমে আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি উজ্জ্বল এবং বাসযোগ্য পৃথিবী তৈরি করতে পারব।

জলবায়ু প্রকৌশলের বাস্তব দিক: প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ

প্রয়োগের জটিলতা এবং প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা

জলবায়ু প্রকৌশলের ধারণা শুনতে যতটা আকর্ষণীয় লাগে, বাস্তব ক্ষেত্রে এর প্রয়োগ ততটাই জটিল। আমি যখন কোনো নতুন গ্যাজেট কিনি, তখন ভাবি সবকিছু কত মসৃণভাবে চলবে। কিন্তু প্রায়শই দেখা যায়, ছোটখাটো ত্রুটি বা সীমাবদ্ধতার কারণে সেটা ঠিকমতো কাজ করে না। জলবায়ু প্রকৌশল তো একটা ছোট গ্যাজেট নয়, এটা পুরো পৃথিবীর আবহাওয়া নিয়ে কাজ করে!

এই ধরনের বিশাল আকারের প্রযুক্তির প্রয়োগে অনেক চ্যালেঞ্জ আছে। উদাহরণস্বরূপ, স্ট্র্যাটোস্ফেরিক অ্যারোসল ইনজেকশনের জন্য যে ধরনের প্রযুক্তিগত অবকাঠামো প্রয়োজন, তা এখনো সম্পূর্ণরূপে বিকশিত হয়নি। উচ্চ উচ্চতায় বড় আকারের কণা ছড়ানো এবং সেগুলোকে দীর্ঘক্ষণ ধরে বায়ুমণ্ডলে টিকিয়ে রাখা একটি বিশাল প্রকৌশলগত কাজ। এছাড়া, এই কণাগুলোর বিতরণ কিভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে, যাতে পৃথিবীর সব অঞ্চলে সুষমভাবে শীতলীকরণ হয়, তা নিয়েও অনেক প্রশ্ন আছে। আর একবার যদি প্রয়োগ শুরু হয়, তাহলে তা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়াও খুব কঠিন হবে, কারণ ‘টার্মিনেশন শক’-এর ঝুঁকি থাকবে।

পর্যবেক্ষণ, পরিমাপ এবং অপ্রত্যাশিত প্রভাব

যে কোনো বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মতোই, জলবায়ু প্রকৌশলের ক্ষেত্রেও এর প্রভাবগুলো সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ এবং পরিমাপ করা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু পৃথিবীর মতো এত বিশাল এবং জটিল একটি সিস্টেমে এর সঠিক প্রভাব পরিমাপ করা কি সম্ভব?

আমার মনে আছে, আমি যখন আমার বাগানে একটা নতুন ধরনের সার ব্যবহার করেছিলাম, তখন এর ফল বুঝতে আমার কয়েক মাস লেগেছিল। আর পৃথিবীর আবহাওয়ার পরিবর্তন তো আরও অনেক দীর্ঘমেয়াদী ব্যাপার!

বিজ্ঞানীরা সতর্ক করছেন যে এই প্রযুক্তিগুলো অপ্রত্যাশিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে, যা আমরা এখনও জানি না। যেমন, SRM প্রয়োগের ফলে ওজোন স্তরের উপর কী প্রভাব পড়বে, বা এটি বায়ুমণ্ডলের রাসায়নিক গঠনকে কিভাবে পরিবর্তন করবে, তা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। এই ধরনের অপ্রত্যাশিত পরিবর্তনগুলো আমাদের পরিবেশের অন্যান্য অংশে গুরুতর ক্ষতি করতে পারে। তাই, এই প্রযুক্তি নিয়ে এগোলে আমাদেরকে খুবই সতর্ক থাকতে হবে এবং অবিরাম গবেষণা চালিয়ে যেতে হবে।

পদ্ধতি সুবিধা অসুবিধা নৈতিক বিবেচনা
সৌর বিকিরণ ব্যবস্থাপনা (SRM) দ্রুত তাপমাত্রা হ্রাস, খরা কমানো আঞ্চলিক আবহাওয়ার পরিবর্তন, টার্মিনেশন শকের ঝুঁকি, সমুদ্রের অম্লকরণে প্রভাব নেই একতরফা প্রয়োগের ঝুঁকি, কার্বন নির্গমন কমানোর প্রতি মনোযোগ হ্রাস
কার্বন ডাই অক্সাইড অপসারণ (CDR) বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন অপসারণ, দীর্ঘমেয়াদী সমাধান ধীর প্রক্রিয়া, উচ্চ ব্যয়, বৃহৎ আকারের জমির প্রয়োজন, শক্তির ব্যবহার ভূমি ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক, জীববৈচিত্র্যের উপর প্রভাব, প্রযুক্তিগত কার্যকারিতা
Advertisement

বিশ্বব্যাপী সহযোগিতা: একটি অপরিহার্য প্রয়োজন

ভূ-রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং সম্মিলিত পদক্ষেপ

জলবায়ু প্রকৌশল কোনো একক দেশ বা অঞ্চলের সমস্যা নয়, এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা যার সমাধানের জন্য বিশ্বব্যাপী সহযোগিতা অপরিহার্য। আমার মনে আছে, একবার আমি যখন একটা আন্তর্জাতিক সেমিনারে গিয়েছিলাম, সেখানে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করছিলেন। সবাই বুঝতে পারছিলেন যে একা কারো পক্ষেই এই সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। জলবায়ু প্রকৌশলের ক্ষেত্রে ভূ-রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ আরও প্রকট। যদি কোনো একটি দেশ একতরফাভাবে এই প্রযুক্তি প্রয়োগ করে, তাহলে তার প্রভাব অন্যান্য দেশের উপর পড়বে, যা আন্তর্জাতিক সম্পর্কে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, যদি ভারত মহাসাগরের উপর কোনো প্রযুক্তি প্রয়োগের ফলে বাংলাদেশের মৌসুমি বৃষ্টিপাত প্রভাবিত হয়, তাহলে এটি দুই দেশের মধ্যে বড় ধরনের সংঘাত তৈরি করতে পারে। এই ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি বা নীতিমালা প্রয়োজন, যেখানে সব দেশের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকবে এবং কোনো দেশ অন্যের উপর তার সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারবে না।

সংলাপ, সমন্বয় এবং ভাগাভাগি করা দায়িত্ব

জলবায়ু প্রকৌশল নিয়ে আমাদের একটি খোলা এবং সৎ বৈশ্বিক সংলাপ প্রয়োজন। এই আলোচনায় শুধু বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী বা রাজনীতিবিদরাই নয়, সমাজের সকল স্তরের মানুষ, যেমন – আদিবাসী সম্প্রদায়, কৃষক, মৎস্যজীবী এবং যুবসমাজকেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। আমার মনে হয়, যখন একটি সমস্যা সবার হয়, তখন তার সমাধানও সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় হওয়া উচিত। বিভিন্ন দেশের মধ্যে জ্ঞান, গবেষণা এবং প্রযুক্তি ভাগাভাগি করা এই সমাধানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ধনী দেশগুলোর উচিত দরিদ্র দেশগুলোকে এই গবেষণায় অংশ নিতে এবং এর সম্ভাব্য সুবিধা বা ঝুঁকিগুলো মোকাবিলা করতে সহায়তা করা। জলবায়ু পরিবর্তন এবং জলবায়ু প্রকৌশল – উভয়ই মানবজাতির ভাগাভাগি করা দায়িত্বের অংশ। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে না পারি, তাহলে এই জটিল সমস্যাগুলোর সমাধান করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, পারস্পরিক বোঝাপড়া, সম্মান এবং সহযোগিতার মাধ্যমেই আমরা এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারব এবং একটি সুস্থ ও টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণ করতে পারব।

글을마치며

জলবায়ু প্রকৌশল নিঃসন্দেহে এক জটিল এবং বহুস্তরীয় আলোচনার বিষয়। আমরা দেখেছি এর সম্ভাবনা যেমন আকাশছোঁয়া, তেমনই এর ঝুঁকিগুলোও সুদূরপ্রসারী। মানুষ হিসেবে আমাদের দায়িত্ব শুধুমাত্র প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা নয়, বরং তার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবগুলো নিয়ে গভীর ভাবনাচিন্তা করা। প্রকৃতির সাথে আমাদের সম্পর্কটা বোঝাপড়ার, নিয়ন্ত্রণের নয়। আশা করি, আজকের আলোচনা আপনাদেরকে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে আরও ভাবতে উৎসাহিত করবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ পৃথিবী গড়তে সম্মিলিত প্রচেষ্টার অংশীদার হতে সাহায্য করবে।

Advertisement

알아두লে কাজে লাগার মতো তথ্য

১. প্রতিদিন আমাদের ছোট ছোট অভ্যাস পরিবর্তন করেও জলবায়ু পরিবর্তনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব। যেমন, বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা, গণপরিবহন ব্যবহার করা বা অপ্রয়োজনে জল অপচয় না করা।

২. নবায়নযোগ্য শক্তি যেমন সৌর বা বায়ু শক্তির ব্যবহার বাড়াতে সরকারকে উৎসাহিত করুন। আপনার এলাকার স্থানীয় বিদ্যুৎ সরবরাহকারীকে নবায়নযোগ্য শক্তি প্রকল্প সমর্থন করার কথা বলুন।

৩. জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কে নিজেকে এবং আপনার চারপাশের মানুষদেরকে শিক্ষিত করুন। সঠিক তথ্য জানা থাকলে ভুল ধারণাগুলো দূর হয় এবং কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সুবিধা হয়।

৪. টেকসই জীবনযাপন বেছে নিন। কম কেনাকাটা করুন, পুনর্ব্যবহার করুন এবং এমন পণ্য ব্যবহার করুন যা পরিবেশের জন্য কম ক্ষতিকর।

৫. আপনার স্থানীয় এবং জাতীয় পর্যায়ে পরিবেশ রক্ষার নীতি নির্ধারণে সক্রিয়ভাবে অংশ নিন। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে আপনার মতামত তুলে ধরুন এবং পরিবেশ সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে যোগ দিন।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সংক্ষেপে

জলবায়ু প্রকৌশলের মূল বিষয়বস্তু: একটি সামগ্রিক পর্যালোচনা

জলবায়ু প্রকৌশল এমন এক প্রযুক্তিগত ধারণা, যা পৃথিবীর জলবায়ু ব্যবস্থায় বড় আকারের হস্তক্ষেপ করে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতিকূল প্রভাব কমানোর চেষ্টা করে। এর প্রধান দুটি পদ্ধতি হলো সৌর বিকিরণ ব্যবস্থাপনা (SRM) এবং কার্বন ডাই অক্সাইড অপসারণ (CDR)। SRM দ্রুত তাপমাত্রা কমানোর ক্ষমতা রাখে, কিন্তু এটি গ্রিনহাউস গ্যাসের মূল সমস্যার সমাধান করে না এবং এর আঞ্চলিক আবহাওয়ার উপর অপ্রত্যাশিত প্রভাব থাকতে পারে। অন্যদিকে, CDR বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন অপসারণ করে দীর্ঘমেয়াদী সমাধান দিলেও এটি একটি ধীর এবং ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া, যার জন্য ব্যাপক অবকাঠামো এবং শক্তির প্রয়োজন। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, যেকোনো বৃহৎ প্রযুক্তির প্রয়োগে সুদূরপ্রসারী ভাবনা জরুরি, কারণ এর ভুল ব্যবহার অপ্রত্যাশিত বিপদ ডেকে আনতে পারে।

নৈতিকতা, সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি দায়বদ্ধতা

এই প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে গভীর নৈতিক প্রশ্ন উঠেছে। কে এই ধরনের বিশাল সিদ্ধান্ত নেবে, এর সম্ভাব্য সুবিধাভোগী কারা হবেন এবং এর ক্ষতির শিকার কারা হবেন – এই প্রশ্নগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি ধনী দেশগুলো নিজেদের স্বার্থে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে, আর তার ফল গরিব দেশগুলোকে ভোগ করতে হয়, তাহলে তা এক নতুন ধরনের বৈশ্বিক বৈষম্য তৈরি করবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা অনস্বীকার্য। আমরা এমন একটি পৃথিবী রেখে যেতে চাই না যেখানে জলবায়ু প্রকৌশল ছাড়া বাঁচা অসম্ভব হয়ে পড়ে। বরং আমাদের উচিত নির্গমন কমানোর উপর জোর দেওয়া এবং টেকসই জীবনযাপনে উৎসাহিত করা, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি স্থিতিশীল ও বাসযোগ্য পৃথিবী পায়। স্থানীয় জ্ঞান এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রজ্ঞা এই বিতর্কে অত্যন্ত মূল্যবান অবদান রাখতে পারে, যা প্রযুক্তিগত সমাধানের পাশাপাশি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিকেও গুরুত্ব দেবে।

প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ এবং বিশ্বব্যাপী সহযোগিতার গুরুত্ব

জলবায়ু প্রকৌশলের বাস্তব প্রয়োগে বহু প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ রয়েছে। উচ্চ উচ্চতায় অ্যারোসল ইনজেকশন বা কার্বন ডাই অক্সাইড অপসারণের জন্য প্রয়োজনীয় বিশাল অবকাঠামো এখনও সম্পূর্ণরূপে বিকশিত হয়নি। এর প্রভাব সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ ও পরিমাপ করা অত্যন্ত জটিল। অপ্রত্যাশিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, যেমন ওজোন স্তরের উপর প্রভাব বা বায়ুমণ্ডলের রাসায়নিক গঠনে পরিবর্তন, মারাত্মক হতে পারে। এই সমস্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশ্বব্যাপী সহযোগিতা অপরিহার্য। একক কোনো দেশ বা অঞ্চলের পক্ষে এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। একটি স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক এবং ন্যায়সঙ্গত আন্তর্জাতিক কাঠামোর মাধ্যমে সকল দেশের মতামত এবং স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। জ্ঞান, গবেষণা এবং প্রযুক্তি ভাগাভাগি করার মাধ্যমে আমরা জলবায়ু পরিবর্তনের মতো একটি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারব এবং একটি সুস্থ ও টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণ করতে পারব।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) 📖

প্র: জলবায়ু প্রকৌশল আসলে কী, আর এটা কীভাবে কাজ করে?

উ: জলবায়ু প্রকৌশল বা জিও-ইঞ্জিনিয়ারিং বলতে সহজভাবে বোঝায় পৃথিবীর জলবায়ু ব্যবস্থায় ইচ্ছাকৃতভাবে বড় আকারের হস্তক্ষেপ করা, যাতে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবগুলো কমানো যায়। আমার মনে হয় এটা অনেকটা প্রকৃতির জ্বর কমানোর জন্য ওষুধ দেওয়ার মতো। এর মূল লক্ষ্য হলো দুটি প্রধান উপায়ে কাজ করা। প্রথমত, সূর্য থেকে পৃথিবীতে আসা তাপের পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া, যাকে বলা হয় সোলার রেডিয়েশন ম্যানেজমেন্ট (Solar Radiation Management – SRM)। যেমন, স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে অ্যারোসল কণা ছড়িয়ে দেওয়া যা সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে মহাকাশে ফিরিয়ে দেয়, বা মেঘকে আরও উজ্জ্বল করে তোলা। অনেকটা ছাতা মেলে ধরার মতো, যাতে সরাসরি রোদটা গায়ে না লাগে। দ্বিতীয়ত, বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড (Carbon Dioxide) শোষণ করে নেওয়া, যাকে বলা হয় কার্বন ডাই অক্সাইড রিমুভাল (Carbon Dioxide Removal – CDR)। এটা গাছের মতো কাজ করে, যা বাতাস থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড টেনে নেয়। এর মধ্যে আছে সরাসরি বায়ু থেকে কার্বন ধরে রাখা এবং মাটির নিচে সংরক্ষণ করা, বা সমুদ্রের উর্বরতা বাড়িয়ে বেশি কার্বন শোষণ করানো। আমি যখন প্রথম এই ধারণাগুলো শুনি, আমার মনে হয়েছিল যেন আমরা ঈশ্বরের ভূমিকা নিচ্ছি!
তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে এমন কঠোর পদক্ষেপের কথা ভাবতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

প্র: জলবায়ু প্রকৌশলের সম্ভাব্য সুবিধা এবং ঝুঁকিগুলো কী কী?

উ: আমার অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, যেকোনো বড় প্রযুক্তিরই যেমন উজ্জ্বল দিক থাকে, তেমনি থাকে অন্ধকার দিকও। জলবায়ু প্রকৌশলের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা ঠিক একইরকম। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এটি দ্রুত বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির গতি কমাতে পারে, বিশেষ করে SRM পদ্ধতিগুলো। কল্পনা করুন, আমরা যদি কয়েক বছরের মধ্যেই পৃথিবীর তাপমাত্রা কিছুটা কমিয়ে আনতে পারি, তাহলে মেরু অঞ্চলের বরফ গলার গতি কমবে, সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে না, আর চরম আবহাওয়ার ঘটনাগুলো হয়তো কিছুটা কমতে পারে। এটা আমাদের মানবজাতিকে জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর জন্য আরও সময় দেবে। কিন্তু ঝুঁকিগুলোও কম নয়। আমি যেমনটা অনুভব করি, প্রকৃতির সাথে এত বড় আকারের খেলা করাটা বেশ বিপজ্জনক হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে কণা ছড়ানোর ফলে আঞ্চলিক আবহাওয়ার ধরন বদলে যেতে পারে, যা বিশ্বের কোনো অংশে খরা বা অন্য অংশে বন্যা ডেকে আনতে পারে। এর ফলে কৃষি উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যা খাদ্য নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দেবে। আবার, সমুদ্রের উর্বরতা বাড়ানোর মতো CDR পদ্ধতিগুলো সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের উপর কী প্রভাব ফেলবে, তা আমরা এখনও পুরোপুরি জানি না। সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো, এই প্রযুক্তির উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা আমাদের কার্বন নিঃসরণ কমানোর আসল সমাধান থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে আরও ভয়াবহ হতে পারে।

প্র: জলবায়ু প্রকৌশল নিয়ে কি কোনো নৈতিক বা সামাজিক বিতর্ক আছে, এবং সেগুলো কী কী?

উ: ওহ, এটা তো খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা দিক! আমি যখন এই বিষয়টা নিয়ে গভীর ভাবনা-চিন্তা করি, তখন আমার মনে হাজারো প্রশ্ন ভিড় করে। হ্যাঁ, জলবায়ু প্রকৌশল নিয়ে ব্যাপক নৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক রয়েছে, এবং এগুলো এর প্রযুক্তির মতোই জটিল। প্রথমত, ‘আমরা কি প্রকৃতির উপর এতটা হস্তক্ষেপ করার অধিকার রাখি?’ এই প্রশ্নটা বারবার সামনে আসে। অনেকে মনে করেন, প্রকৃতির ভারসাম্যকে এত বড় পরিসরে পরিবর্তন করার চেষ্টা করাটা মানবজাতির অহংকার ছাড়া আর কিছু নয়, এবং এর অপ্রত্যাশিত পরিণতি হতে পারে ভয়াবহ। দ্বিতীয়ত, এর ‘শাসন ব্যবস্থা’ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। কোন দেশ বা সংস্থা এই ধরনের প্রযুক্তি মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নেবে?
যদি একটি দেশ SRM ব্যবহার করে তাপমাত্রা কমায়, কিন্তু অন্য একটি দেশ এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে তার দায় কে নেবে? দরিদ্র দেশগুলো হয়তো এই প্রযুক্তির ব্যয় বহন করতে পারবে না, ফলে উন্নত দেশগুলো একতরফাভাবে এর সুবিধা নিতে পারে, যা বৈষম্য আরও বাড়িয়ে দেবে। তৃতীয়ত, ‘নৈতিক বিপদ’ (Moral Hazard) বলে একটি ধারণা আছে। এর মানে হলো, যদি মানুষ মনে করে যে জলবায়ু প্রকৌশল আছে, তাহলে তারা জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো বা কার্বন নিঃসরণ কমানোর জন্য প্রয়োজনীয় কঠোর পদক্ষেপ নিতে আগ্রহ হারাবে। আমার ব্যক্তিগত মত, এই ধরনের প্রযুক্তির উপর ভরসা না করে আমাদের বরং কার্বন নিঃসরণ কমানোর দিকেই বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত। কারণ, প্রাকৃতিক উপাদানের উপর যেকোনো ধরনের অনিয়ন্ত্রিত হস্তক্ষেপের পরিণাম শুভ হয় না, এই শিক্ষা তো আমরা ইতিহাস থেকেই পেয়েছি, তাই না?

📚 তথ্যসূত্র

Advertisement