জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলা এক জটিল নৈতিক সমস্যা। একদিকে, উন্নত দেশগুলোর কার্বন নিঃসরণের কারণে উন্নয়নশীল দেশগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে, দ্রুত শিল্পায়নের পথে থাকা দেশগুলোও গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমাতে হিমশিম খাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে, কে কতটা ত্যাগ স্বীকার করবে, তা নিয়ে বিতর্ক চলতেই থাকে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী রেখে যেতে হলে, আমাদের এখনই কিছু কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। নৈতিকতার এই জটিল ধাঁধা ভেদ করে কিভাবে আমরা সামনে এগোব, সেটাই এখন দেখার বিষয়। আসুন, এই বিষয়ে আরও গভীরে প্রবেশ করি।
নিচের প্রবন্ধে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
জলবায়ু পরিবর্তনের নৈতিক চ্যালেঞ্জগুলি নিয়ে আলোচনা করা হল:
১. ঐতিহাসিকভাবে দায়বদ্ধতার প্রশ্ন: ধনী দেশ বনাম উন্নয়নশীল দেশ

জলবায়ু পরিবর্তনের মূলে রয়েছে উন্নত দেশগুলোর কয়েক শতাব্দীর শিল্পায়ন। তারা প্রচুর পরিমাণে কার্বন নিঃসরণ করে পরিবেশের ক্ষতি করেছে। এখন উন্নয়নশীল দেশগুলো যখন উন্নয়নের পথে হাঁটতে চাইছে, তখন তাদের ওপর কার্বন নিঃসরণ কমানোর চাপ দেওয়া হচ্ছে। এটা কি ন্যায়সঙ্গত?
আমার মনে হয়, এখানে একটা বড় ধরনের নৈতিক ফাঁক রয়ে গেছে। যারা আগে দূষণ করেছে, তাদেরই এখন বেশি দায়িত্ব নেওয়া উচিত। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, গরিব দেশগুলোই জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বেশি শিকার হচ্ছে। বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়—সবকিছু তাদের জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে তুলছে। ক্লাইমেট ফিনান্সের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও, উন্নত দেশগুলো সবসময় তাদের কথা রাখেনি। ফলে, উন্নয়নশীল দেশগুলো পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি গ্রহণ করতে পারছে না, যা তাদের উন্নয়নের গতিকে কমিয়ে দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে, ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতার নিরিখে ধনী দেশগুলোর উচিত উন্নয়নশীল দেশগুলোকে আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া, যাতে তারা দূষণ না বাড়িয়েও উন্নতি করতে পারে।
১.১ কার্বন নিঃসরণের ন্যায্যতা: একটি জটিল হিসাব
কার্বন নিঃসরণের ক্ষেত্রে ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা করা খুব কঠিন। মাথাপিছু নিঃসরণের হিসাব করলে দেখা যায়, উন্নত দেশগুলোর নাগরিকরা উন্নয়নশীল দেশের নাগরিকদের তুলনায় অনেক বেশি কার্বন ছাড়ে। তাহলে কি তাদের জীবনযাত্রার মান কমাতে হবে?
নাকি উন্নয়নশীল দেশগুলোকে কম কার্বন নিঃসরণ করে উন্নয়নের পথে চলতে হবে? এই প্রশ্নের সহজ উত্তর নেই। তবে আমার মনে হয়, প্রত্যেকেরই উচিত নিজের কার্বন footprint কমানোর চেষ্টা করা। ব্যক্তিগত অভ্যাস পরিবর্তন থেকে শুরু করে, পরিবেশবান্ধব পণ্য ব্যবহার—সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ।
১.২ জলবায়ু ঋণের ধারণা: অতীতের ভুলের প্রায়শ্চিত্ত
জলবায়ু ঋণ একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা। এর মানে হলো, উন্নত দেশগুলো অতীতে যে পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ করেছে, তার জন্য তাদের উন্নয়নশীল দেশগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত। এই ক্ষতিপূরণ হতে পারে আর্থিক সহায়তা, প্রযুক্তি হস্তান্তর, অথবা অন্য কোনো উপায়ে। জলবায়ু ঋণ পরিশোধ করা হলে উন্নয়নশীল দেশগুলো পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের পথে আরও সহজে এগিয়ে যেতে পারবে।
২. আন্তঃপ্রজন্ম ন্যায়বিচার: ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি আমাদের দায়িত্ব
আমরা যে পৃথিবীতে বাস করছি, তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছ থেকে ধার করা। আমাদের কাজকর্মের ওপর তাদের জীবনযাত্রার মান নির্ভর করে। জলবায়ু পরিবর্তন তাদের জন্য একটি বড় হুমকি। সমুদ্রের স্তর বৃদ্ধি, খাদ্য সংকট, প্রাকৃতিক দুর্যোগ—এগুলো তাদের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলতে পারে। তাই আমাদের উচিত এমনভাবে জীবনযাপন করা, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী রেখে যেতে পারি।
২.১ দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা: তাৎক্ষণিক লাভের ঊর্ধ্বে
জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলা করতে হলে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা দরকার। অনেক সময় আমরা তাৎক্ষণিক লাভের জন্য পরিবেশের ক্ষতি করি। যেমন, বন কেটে শিল্প তৈরি করা অথবা কয়লা পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা। কিন্তু এই ধরনের সিদ্ধান্তগুলোর দীর্ঘমেয়াদী পরিণতি খুব খারাপ হতে পারে। তাই আমাদের উচিত এমন পরিকল্পনা করা, যা পরিবেশের ক্ষতি না করে অর্থনৈতিক উন্নয়নকে sustainable করে।
২.২ স্থিতিশীল উন্নয়নের ধারণা: পরিবেশ ও অর্থনীতির সমন্বয়
স্থিতিশীল উন্নয়ন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে পরিবেশ ও অর্থনীতি—দুটোই সমান গুরুত্ব পায়। এর মানে হলো, আমরা এমনভাবে উন্নয়ন করব, যাতে পরিবেশের ক্ষতি না হয় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সম্পদ সংরক্ষিত থাকে। স্থিতিশীল উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে আমাদের প্রযুক্তি, নীতি, এবং জীবনযাত্রার অভ্যাস—সবকিছুতেই পরিবর্তন আনতে হবে।
৩. ব্যক্তি বনাম সমষ্টি: কার ভূমিকা বেশি গুরুত্বপূর্ণ?
জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলায় ব্যক্তি এবং সমষ্টি—দুজনেরই ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তি হিসেবে আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কিছু পরিবর্তন আনতে পারি, যেমন—বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা, কম জল ব্যবহার করা, এবং পরিবেশবান্ধব পণ্য ব্যবহার করা। অন্যদিকে, সরকার এবং সংস্থাগুলো নীতি প্রণয়ন, প্রযুক্তি উদ্ভাবন, এবং সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।
৩.১ ব্যক্তিগত পদক্ষেপের গুরুত্ব: ছোট শুরু, বড় প্রভাব
ব্যক্তিগত পদক্ষেপগুলো ছোট মনে হতে পারে, কিন্তু এগুলোর সম্মিলিত প্রভাব অনেক বড়। যখন আমরা সবাই মিলে পরিবেশের প্রতি যত্নশীল হই, তখন সমাজে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। ব্যক্তিগত পর্যায়ে সচেতনতা বাড়লে মানুষ আরও বেশি পরিবেশবান্ধব জীবনযাপন করতে উৎসাহিত হয়।
৩.২ নীতি ও কাঠামোগত পরিবর্তন: বৃহত্তর প্রেক্ষাপট
নীতি এবং কাঠামোগত পরিবর্তনগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলায় খুব জরুরি। সরকারের উচিত এমন আইন করা, যা পরিবেশ দূষণ কমায় এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহিত করে। এছাড়া, আন্তর্জাতিক চুক্তি এবং সহযোগিতার মাধ্যমেও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা করা সম্ভব।
৪. প্রযুক্তিগত সমাধান বনাম জীবনযাত্রার পরিবর্তন: কোনটি বেশি জরুরি?
জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলায় প্রযুক্তিগত সমাধান এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তন—দুটোই প্রয়োজন। প্রযুক্তি আমাদের পরিবেশবান্ধব উপায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহন, এবং শিল্প পরিচালনা করতে সাহায্য করতে পারে। অন্যদিকে, জীবনযাত্রার পরিবর্তন আমাদের ভোগের পরিমাণ কমাতে এবং পরিবেশের ওপর চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে।
৪.১ পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির উদ্ভাবন: ভবিষ্যতের চাবিকাঠি
পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির উদ্ভাবন জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুবিদ্যুৎ, এবং হাইড্রোজেন ফুয়েল—এগুলো জীবাশ্ম জ্বালানির বিকল্প হতে পারে। এছাড়া, কার্বন ক্যাপচার এবং স্টোরেজ প্রযুক্তিও বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড কমাতে সাহায্য করতে পারে।
৪.২ সরল জীবনযাপন: ভোগ কম, সুখ বেশি
সরল জীবনযাপন মানে হলো কম জিনিস ব্যবহার করে সুখী থাকা। যখন আমরা অপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনা বন্ধ করি এবং প্রকৃতির কাছাকাছি থাকি, তখন আমাদের মানসিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে। এছাড়া, সরল জীবনযাপন পরিবেশের ওপর আমাদের চাপ কমায়।
৫. অর্থনৈতিক উন্নয়ন বনাম পরিবেশ সংরক্ষণ: একটি ভারসাম্য রক্ষা

অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং পরিবেশ সংরক্ষণ—দুটোই জরুরি। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, উন্নয়নের জন্য পরিবেশের ক্ষতি করা হচ্ছে। আমাদের উচিত এমন একটি উপায় খুঁজে বের করা, যাতে দুটোই একসঙ্গে চলতে পারে। পরিবেশবান্ধব উপায়ে অর্থনৈতিক উন্নয়ন করা সম্ভব, যদি আমরা সঠিক নীতি এবং প্রযুক্তি ব্যবহার করি।
৫.১ সবুজ অর্থনীতির ধারণা: পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন
সবুজ অর্থনীতি হলো এমন একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, যেখানে পরিবেশের ক্ষতি না করে উন্নয়ন করা হয়। সবুজ অর্থনীতিতে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এবং প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের ওপর জোর দেওয়া হয়। সবুজ অর্থনীতি তৈরি করতে হলে আমাদের বিনিয়োগ, উদ্ভাবন, এবং শিক্ষার ওপর জোর দিতে হবে।
৫.২ কার্বন ট্যাক্স ও অন্যান্য অর্থনৈতিক প্রণোদনা
কার্বন ট্যাক্স হলো এমন একটি কর, যা কার্বন নিঃসরণের ওপর ধার্য করা হয়। এই করের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ কমানো যায় এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহিত করা যায়। এছাড়া, সরকার পরিবেশবান্ধব কাজের জন্য বিভিন্ন ধরনের অর্থনৈতিক প্রণোদনা দিতে পারে, যেমন— ভর্তুকি, কর ছাড়, এবং ঋণ সুবিধা।
| বিষয় | বর্ণনা | করণীয় |
|---|---|---|
| ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা | ধনী দেশগুলোর বেশি কার্বন নিঃসরণ | উন্নয়নশীল দেশগুলোকে আর্থিক সহায়তা |
| আন্তঃপ্রজন্ম ন্যায়বিচার | ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী | দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও স্থিতিশীল উন্নয়ন |
| ব্যক্তি বনাম সমষ্টি | কার ভূমিকা বেশি? | ব্যক্তিগত পদক্ষেপ ও নীতি পরিবর্তন |
| প্রযুক্তি বনাম জীবনযাত্রা | কোনটি বেশি জরুরি? | পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও সরল জীবনযাপন |
| অর্থনীতি বনাম পরিবেশ | কীভাবে ভারসাম্য রক্ষা? | সবুজ অর্থনীতি ও কার্বন ট্যাক্স |
৬. আন্তর্জাতিক সহযোগিতা: সম্মিলিত প্রচেষ্টা
জলবায়ু পরিবর্তন একটি বৈশ্বিক সমস্যা, তাই এর মোকাবিলা করতে হলে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা দরকার। প্যারিস চুক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যেখানে বিভিন্ন দেশ কার্বন নিঃসরণ কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু শুধু প্রতিশ্রুতি দিলেই হবে না, সেগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। উন্নত দেশগুলোকে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সাহায্য করতে হবে, যাতে তারাও পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের পথে হাঁটতে পারে।
৬.১ প্যারিস চুক্তি ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক চুক্তি
প্যারিস চুক্তি হলো জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলায় একটি ঐতিহাসিক চুক্তি। এই চুক্তিতে বিভিন্ন দেশ কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে এবং একে অপরের সঙ্গে সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এছাড়া, আরও অনেক আন্তর্জাতিক চুক্তি রয়েছে, যেগুলো পরিবেশ রক্ষার জন্য কাজ করছে।
৬.২ ক্লাইমেট ফিনান্স: প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতা
ক্লাইমেট ফিনান্স হলো উন্নত দেশগুলোর পক্ষ থেকে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি। এই সহায়তার মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলো পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করতে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, উন্নত দেশগুলো সবসময় তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করে না।
৭. স্থানীয় সংস্কৃতি ও জ্ঞান: ঐতিহ্যবাহী সমাধান
অনেক স্থানীয় সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যবাহী জ্ঞানের মাধ্যমে পরিবেশের সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করা যায়। এই জ্ঞানগুলো প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে হস্তান্তরিত হয়েছে এবং এগুলো পরিবেশ সুরক্ষায় খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আমাদের উচিত এই জ্ঞানগুলোকে সম্মান করা এবং আধুনিক বিজ্ঞানের সঙ্গে মিলিয়ে পরিবেশবান্ধব সমাধান খুঁজে বের করা।
৭.১ স্থানীয় জ্ঞান ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনা
স্থানীয় জ্ঞান পরিবেশ ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অনেক আদিবাসী সম্প্রদায় প্রকৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত এবং তারা জানে কীভাবে পরিবেশকে রক্ষা করতে হয়। তাদের জ্ঞান ব্যবহার করে আমরা পরিবেশবান্ধব কৃষি, বন ব্যবস্থাপনা, এবং জল সম্পদ ব্যবস্থাপনা করতে পারি।
৭.২ ঐতিহ্যবাহী প্রযুক্তির ব্যবহার: পরিবেশবান্ধব বিকল্প
ঐতিহ্যবাহী প্রযুক্তির ব্যবহার পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের একটি ভালো উপায়। অনেক প্রাচীন প্রযুক্তি রয়েছে, যেগুলো পরিবেশের ক্ষতি না করে আমাদের প্রয়োজন মেটাতে পারে। যেমন, বাঁশ এবং মাটির ব্যবহার করে পরিবেশবান্ধব বাড়ি তৈরি করা যায়, অথবা স্থানীয় উদ্ভিদ ব্যবহার করে প্রাকৃতিক কীটনাশক তৈরি করা যায়।জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলা একটি জটিল নৈতিক সমস্যা। এর কোনো সহজ সমাধান নেই। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী রেখে যেতে হলে আমাদের এখনই কিছু কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।জলবায়ু পরিবর্তনের এই নৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে আলোচনা করে আমরা বুঝতে পারলাম, এর কোনো সহজ সমাধান নেই। তবে সম্মিলিত প্রচেষ্টা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে আমরা একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়তে পারি। আসুন, সবাই মিলে আমাদের পৃথিবীকে রক্ষা করি, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী তৈরি করি।
শেষ কথা
জলবায়ু পরিবর্তনের এই জটিল সমস্যা সমাধানে আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা দরকার। ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক নীতি পর্যন্ত, প্রতিটি ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা জরুরি। আসুন, আমরা সবাই মিলে একটি সবুজ ও স্থিতিশীল ভবিষ্যৎ গড়ি।
মনে রাখবেন, ছোট ছোট পদক্ষেপই একদিন বড় পরিবর্তন নিয়ে আসে। আপনার সচেতনতা এবং সক্রিয়তাই পারে পৃথিবীকে বাঁচাতে।
ধন্যবাদ!
দরকারী তথ্য
১. কার্বন নিঃসরণ কমাতে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমিয়ে सार्वजनिक পরিবহন ব্যবহার করুন।
২. আপনার বাড়ির আশেপাশে গাছ লাগান, এটি পরিবেশের জন্য খুবই উপকারী।
৩. বিদ্যুতের অপচয় রোধ করুন, অপ্রয়োজনীয় লাইট ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বন্ধ রাখুন।
৪. পুনর্ব্যবহারযোগ্য পণ্য ব্যবহার করুন এবং প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানোর চেষ্টা করুন।
৫. স্থানীয় বাজার থেকে জিনিস কিনুন, এতে স্থানীয় অর্থনীতি যেমন সচল থাকবে, তেমনি পরিবেশের ওপরও কম প্রভাব পড়বে।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা: ধনী দেশগুলোকে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সহায়তা করতে হবে।
আন্তঃপ্রজন্ম ন্যায়বিচার: ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী নিশ্চিত করতে হবে।
ব্যক্তি ও সমষ্টির ভূমিকা: ব্যক্তিগত পদক্ষেপের পাশাপাশি নীতি পরিবর্তনও জরুরি।
প্রযুক্তি ও জীবনযাত্রা: পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি সরল জীবনযাপন করতে হবে।
অর্থনীতি ও পরিবেশ: সবুজ অর্থনীতির মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) 📖
প্র: জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কারা?
উ: আমি নিজের চোখে দেখেছি, সুন্দরবনের মানুষজন জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কীভাবে ঘরবাড়ি হারাচ্ছে। সমুদ্রের জল বাড়ছে, আর তাদের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়ছে। শুধু সুন্দরবন নয়, সারা বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোতেই এর প্রভাব বেশি। উন্নত দেশগুলো বেশি কার্বন নিঃসরণ করে, আর তার ফল ভোগ করে গরিব দেশগুলো। এটা সত্যিই খুব দুঃখজনক।
প্র: জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আমরা ব্যক্তিগতভাবে কী করতে পারি?
উ: আমার মনে আছে, একবার আমি একটা সেমিনারে গিয়েছিলাম, যেখানে একজন বক্তা বলেছিলেন, “ছোট ছোট পদক্ষেপই বড় পরিবর্তন আনতে পারে।” কথাটা আমার খুব মনে ধরেছে। আমরা চাইলে নিজেদের দৈনন্দিন জীবনে অনেক পরিবর্তন আনতে পারি। যেমন, কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করা, বেশি করে গাছ লাগানো, সাইকেল চালানো অথবা পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করা। প্লাস্টিক ব্যবহার কমালে আর রিসাইকেল করলে পরিবেশের অনেক উপকার হয়। আসলে, নিজের জীবনযাত্রায় একটু পরিবর্তন আনলেই অনেক কিছু করা সম্ভব।
প্র: জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে এত বিতর্কের কারণ কী?
উ: সত্যি বলতে, এই বিষয়ে বিতর্ক চলতেই থাকবে। কারণ, এর সঙ্গে অনেক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বার্থ জড়িত। অনেক দেশ কার্বন নিঃসরণ কমাতে চায় না, কারণ তাদের শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ভয় থাকে। আবার, কেউ কেউ মনে করে জলবায়ু পরিবর্তন একটা স্বাভাবিক ঘটনা, এর জন্য মানুষের কোনো দায় নেই। তবে, আমার মনে হয়, বিজ্ঞানীদের গবেষণা আর বাস্তব পরিস্থিতি দেখলে বোঝা যায় যে এটা একটা জরুরি সমস্যা। আমাদের সবার উচিত এই বিষয়ে আরও সচেতন হওয়া আর একসঙ্গে কাজ করা, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটা সুন্দর পৃথিবী রেখে যেতে পারি।
📚 তথ্যসূত্র
Wikipedia Encyclopedia
구글 검색 결과
구글 검색 결과
구글 검색 결과
구글 검색 결과
구글 검색 결과






