জলবায়ু প্রকৌশল: ঝুঁকি ও নৈতিকতার অজানা অধ্যায় উন্মোচন

webmaster

기후 엔지니어링의 리스크 관리와 윤리 - Solar Radiation Management (SRM) - A Glimpse into a Controlled Sky**

"A stunning, wide-angle cinema...

আমাদের এই প্রাণের পৃথিবীটা এখন এক অদ্ভুত সংকটের মুখে, তাই না? জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আমরা যে ধরনের অস্বাভাবিক আবহাওয়া দেখছি, তা দেখে আমি নিজেই মাঝে মাঝে চিন্তিত হয়ে পড়ি। এই যখন পরিস্থিতি, তখন বিজ্ঞানীরা ‘জলবায়ু প্রকৌশল’ বা ‘Climate Engineering’ নামে এক চমকপ্রদ সমাধানের কথা বলছেন। আমার কাছে এটা যেন বিজ্ঞান কল্পকাহিনীর এক বাস্তব রূপ। কিন্তু, এটা কি আসলেই আমাদের শেষ ভরসা?

শুনতে হয়তো দারুণ লাগে, কিন্তু এর পেছনে লুকিয়ে আছে অনেক বড় চ্যালেঞ্জ আর অপ্রত্যাশিত ঝুঁকি। আমরা তো চাই না একটা সমস্যা সমাধান করতে গিয়ে আরেকটা বড় সমস্যায় পড়ি, তাই না?

এই প্রযুক্তি ব্যবহারের নৈতিক দিকগুলো নিয়েও চলছে জোর আলোচনা। কে সিদ্ধান্ত নেবে, কার লাভ হবে আর কার ক্ষতি হবে – এই প্রশ্নগুলো কিন্তু এড়ানো যাবে না। আমার মনে হয়, কোনো বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এর সব ভালো-মন্দ দিক, এর সম্ভাব্য প্রভাবগুলো খুব ভালোভাবে বুঝে নেওয়া দরকার। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আমরা কেমন পৃথিবী রেখে যাব, সেটা কিন্তু আমাদের আজকের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে। তাহলে এই জলবায়ু প্রকৌশল আসলে কী?

এর সাথে জড়িত ঝুঁকি আর নৈতিক বিতর্কগুলো কী কী? আজকের এই লেখায় আমি চেষ্টা করব আপনাদের সামনে এর সবকিছু বিস্তারিত তুলে ধরতে। চলুন, তাহলে আর দেরি না না করে মূল আলোচনায় প্রবেশ করা যাক।

এই ‘জলবায়ু প্রকৌশল’ জিনিসটা আসলে কী?

기후 엔지니어링의 리스크 관리와 윤리 - Solar Radiation Management (SRM) - A Glimpse into a Controlled Sky**

"A stunning, wide-angle cinema...

আমাদের পৃথিবীর তাপমাত্রা যে হারে বাড়ছে, তা নিয়ে আমরা সবাই কমবেশি চিন্তিত। আর এই চিন্তা থেকেই বিজ্ঞানীরা ‘জলবায়ু প্রকৌশল’ বা ‘Climate Engineering’ নামের একটা দারুণ কিন্তু জটিল সমাধানের কথা বলছেন। এটা যেন একেবারে কল্পবিজ্ঞানের কোনো এক পাতা থেকে উঠে আসা কোনো প্রযুক্তি! কিন্তু সহজ ভাষায় বলতে গেলে, জলবায়ু প্রকৌশল হলো এমন কিছু বড় আকারের কৌশল, যা পৃথিবীর জলবায়ুকে কৃত্রিমভাবে পরিবর্তন করার চেষ্টা করে, যাতে গ্লোবাল ওয়ার্মিং-এর প্রভাব কমানো যায়। আমার কাছে প্রথম যখন শুনলাম, তখন মনে হয়েছিল, বাবা! আমরা মানুষরা কতটা ক্ষমতা রাখি! কিন্তু যত এর গভীরে গিয়েছি, ততই দেখেছি এর অনেক দিক। আসলে এই প্রকৌশল মূলত দু’টি প্রধান ভাগে বিভক্ত, যার প্রত্যেকটির উদ্দেশ্য তাপমাত্রা কমানো হলেও পদ্ধতিগুলো একদম ভিন্ন। একটা হলো সূর্যরশ্মি নিয়ন্ত্রণ করা আর অন্যটা হলো বাতাস থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড শুষে নেওয়া। শুনতে খুব সহজ মনে হলেও এর প্রতিটা ধাপেই লুকিয়ে আছে অনেক চ্যালেঞ্জ আর প্রশ্ন।

সূর্যরশ্মি নিয়ন্ত্রণ করে কি সমাধান সম্ভব?

এই পদ্ধতির পোশাকি নাম হলো ‘সৌর বিকিরণ ব্যবস্থাপনা’ বা ‘Solar Radiation Management (SRM)’। এর মূল ধারণাটা খুবই সহজ: সূর্যের আলো পৃথিবীতে আসার আগেই তাকে ফিরিয়ে দেওয়া। যেন পৃথিবীর উপর একটা বিশাল ছাতা ধরে তাকে ঠান্ডা রাখা। বিজ্ঞানীরা এর জন্য কয়েকটা কৌশলের কথা বলছেন। যেমন, বায়ুমণ্ডলের স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে এরোসল কণা ছড়িয়ে দেওয়া, যা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের সময়কার মতো সূর্যের আলো প্রতিফলিত করবে। আবার কেউ কেউ বলছেন, সমুদ্রের মেঘগুলোকে আরও উজ্জ্বল করে দেওয়া যেতে পারে, যাতে তারা আরও বেশি সূর্যরশ্মি প্রতিফলিত করতে পারে। আমার কাছে এটা যেন খুব দারুণ একটা আইডিয়া মনে হয়, কারণ তাৎক্ষণিকভাবে তাপমাত্রা কমানোর জন্য এটা বেশ কার্যকর হতে পারে। কিন্তু এরোসল ছড়ালে আমাদের আকাশের রং বদলে যাবে না তো? বৃষ্টিপাতের ধরণ পাল্টে যাবে না তো? এই প্রশ্নগুলো আমার মনে বারবার ঘুরপাক খায়। হঠাৎ করে আবহাওয়ার এমন পরিবর্তন হলে কৃষিকাজ থেকে শুরু করে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে যথেষ্ট গবেষণা এখনো হয়নি। এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবগুলো যে কী হতে পারে, তা নিয়ে বিজ্ঞানীরাও এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নন, আর এটাই আমাকে একটু বেশি চিন্তিত করে তোলে।

বাতাস থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড সরানো কি চাট্টিখানি কথা?

জলবায়ু প্রকৌশলের আরেকটি প্রধান কৌশল হলো ‘কার্বন ডাই অক্সাইড অপসারণ’ বা ‘Carbon Dioxide Removal (CDR)’। এই পদ্ধতির মূল লক্ষ্য হলো বায়ুমণ্ডল থেকে সরাসরি কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস সরিয়ে নেওয়া এবং সেটিকে নিরাপদে কোথাও সংরক্ষণ করা। অনেকটা যেন ঘর ঝাড়ু দেওয়ার মতো, নোংরাটা সরাচ্ছি। এর মধ্যে সবচেয়ে সহজ এবং পরিচিত পদ্ধতি হলো প্রচুর পরিমাণে গাছ লাগানো। কারণ গাছ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাতাস থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণ করে। এছাড়াও, কিছু আধুনিক প্রযুক্তি রয়েছে, যেমন ‘ডাইরেক্ট এয়ার ক্যাপচার (Direct Air Capture)’ প্ল্যান্ট, যা সরাসরি বাতাস থেকে CO2 টেনে নেয় এবং ভূগর্ভে সংরক্ষণ করে। সমুদ্রের উর্বরতা বাড়ানোর মাধ্যমেও কার্বন শোষণের কথা বলা হয়। আমার ব্যক্তিগতভাবে এই পদ্ধতিটা একটু বেশি বাস্তবসম্মত মনে হয়, কারণ এতে সরাসরি সমস্যার মূলে আঘাত করা হচ্ছে। তবে একটা জিনিস কি আমরা ভাবি না, এত কার্বন সরাতে কত গাছ লাগবে, আর সেই গাছ লাগানোর জায়গাই বা কোথায়? এই প্রযুক্তিগুলো এখনও বেশ ব্যয়বহুল এবং বিশাল আকারের অবকাঠামো প্রয়োজন হয়। বিশাল পরিমাণ শক্তিও লাগে এসব প্রক্রিয়া চালু রাখতে। তাই, এর কার্যকারিতা এবং স্কেল নিয়ে এখনো অনেক প্রশ্ন রয়েছে।

চমকপ্রদ সমাধানের আড়ালে লুকিয়ে থাকা বিপদগুলো

জলবায়ু প্রকৌশল শুনতে যতই আশা জাগানিয়া মনে হোক না কেন, এর পেছনে লুকিয়ে আছে অনেক বড় চ্যালেঞ্জ আর অপ্রত্যাশিত ঝুঁকি। আমি নিজেও যখন এই বিষয়গুলো নিয়ে আরও গভীরভাবে ভাবি, তখন একটা অজানা ভয় কাজ করে। একটা বড় সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করতে গিয়ে যদি আমরা আরও বড় কোনো সমস্যায় জড়িয়ে পড়ি, সেটা তো কারোরই কাম্য নয়, তাই না? এই প্রযুক্তিগুলো যেমন আমাদের জন্য আশার আলো দেখাচ্ছে, তেমনি এর অন্ধকার দিকগুলোও আমাদের ভালোভাবে বোঝা দরকার। কারণ, প্রকৃতির সঙ্গে সরাসরি এমন বড় আকারের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার ফলাফল কী হতে পারে, তা আমরা এখনো পুরোপুরি জানি না। এর ফলে শুধু পরিবেশগত নয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি হতে পারে, যা হয়তো আমরা কল্পনারও অতীত।

অপ্রত্যাশিত পাশ্বপ্রতিক্রিয়া: নতুন সমস্যা তৈরির ভয়

ধরুন, আমরা বায়ুমণ্ডলে এরোসল কণা ছড়িয়ে সূর্যের আলো প্রতিফলিত করলাম, তাতে হয়তো বৈশ্বিক তাপমাত্রা কিছুটা কমল। কিন্তু এর ফলে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়ার ধরণ পুরোপুরি পাল্টে যেতে পারে। কোনো অঞ্চলে হয়তো বৃষ্টিপাত কমে গিয়ে ভয়াবহ খরা দেখা দেবে, আবার অন্য কোনো অঞ্চলে মাত্রাতিরিক্ত বৃষ্টিতে বন্যা হতে পারে। সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্রের উপর এর কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়েও বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত নন। প্রবাল প্রাচীর বা সামুদ্রিক জীবন কি এই ধরনের পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারবে? আমরা তো জানি, প্রকৃতির ক্ষুদ্রতম পরিবর্তনও অনেক সময় বিশাল বড় প্রভাব ফেলে। যেমন, যদি বৃষ্টিপাতের ধরণ পাল্টে যায়, তাহলে কৃষিকাজে ধস নামতে পারে, যার ফলে খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে। পানীয় জলের অভাবও মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। আমার মনে হয়, এই বিশাল গ্রহের আবহাওয়া নিয়ে আমরা যখন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছি, তখন এর প্রতিটি সম্ভাব্য ফলাফল সম্পর্কে আমাদের সতর্ক থাকা উচিত। কারণ, একবার যদি কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তার ফল ভোগ করতে হবে যুগ যুগ ধরে।

বিশ্বজুড়ে দলাদলি আর দ্বন্দ্বের কারণ

জলবায়ু প্রকৌশল নিয়ে আরেকটি বড় দুশ্চিন্তা হলো এর ভূ-রাজনৈতিক দিক। ভাবুন তো, একটি দেশ হয়তো তাদের জলবায়ু ঠিক রাখার জন্য বায়ুমণ্ডলে কিছু একটা করল, কিন্তু তার প্রভাব পড়ল পাশের অন্য এক দেশের উপর, যারা এই সিদ্ধান্তে জড়িত ছিল না। তখন কী হবে? নিঃসন্দেহে শুরু হবে রাজনৈতিক চাপানউতোর, এমনকি আন্তর্জাতিক সম্পর্কে বড় ধরনের ফাটলও দেখা দিতে পারে! কে সিদ্ধান্ত নেবে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করার? কে দেবে এর বিশাল খরচ? সবাই তো আর সমানভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, আবার সমানভাবে লাভবানও হবে না। যেসব দেশ জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী, তাদের কি এই প্রযুক্তির খরচ বহন করা উচিত? আর যেসব দেশ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে, তাদের কি এই সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায় যথেষ্ট ভূমিকা থাকবে? আমার মনে হয়, এই প্রযুক্তি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আন্তর্জাতিক স্তরে একটা বিশাল ঐক্যের প্রয়োজন। নাহলে, জলবায়ু সমস্যা সমাধানের বদলে আমরা মানবজাতির মধ্যে নতুন করে বিভেদ তৈরি করব, যা বিশ্বশান্তির জন্য মোটেও ভালো নয়।

প্রকৌশল পদ্ধতি (Engineering Method) সংক্ষিপ্ত বিবরণ (Brief Description) সম্ভাব্য সুবিধা (Potential Benefits) সম্ভাব্য ঝুঁকি (Potential Risks)
সৌর বিকিরণ ব্যবস্থাপনা (SRM) সূর্যরশ্মি প্রতিফলিত করে পৃথিবীর তাপমাত্রা কমানো দ্রুত তাপমাত্রা হ্রাস, মেরু অঞ্চলের বরফ রক্ষা আবহাওয়ার ধরণ পরিবর্তন, আঞ্চলিক প্রভাব, নৈতিক বিতর্ক
কার্বন ডাই অক্সাইড অপসারণ (CDR) বায়ুমণ্ডল থেকে CO2 শোষণ করে সংরক্ষণ দীর্ঘমেয়াদী সমস্যার সমাধান, বায়ুমণ্ডলের CO2 কমানো উচ্চ খরচ, বিশাল স্থান প্রয়োজন, শক্তি প্রয়োজন
Advertisement

নৈতিকতার প্রশ্ন: কে করবে সিদ্ধান্ত, কার লাভ হবে?

জলবায়ু প্রকৌশলের প্রযুক্তিগত দিকগুলো যেমন জটিল, তেমনি এর নৈতিক দিকগুলোও কম জটিল নয়। বরং আমার কাছে মনে হয়, নৈতিক প্রশ্নগুলোই হয়তো সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই প্রযুক্তি ব্যবহারের সিদ্ধান্তগুলো শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্যই নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে। কে নেবে এই বড় সিদ্ধান্তগুলো? প্রভাবশালী দেশগুলো কি নিজেদের সুবিধার জন্য এই প্রযুক্তি ব্যবহার করবে, নাকি পৃথিবীর সব মানুষের কথা ভেবে একটি সামগ্রিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে? এই প্রশ্নগুলো আমাকে খুব ভাবায়। কারণ, পরিবেশগত ন্যায়বিচার এবং মানবাধিকারের প্রশ্ন এখানে গভীরভাবে জড়িত। আমরা যদি এই নৈতিক প্রশ্নগুলোর সঠিক উত্তর খুঁজে না পাই, তাহলে এই প্রযুক্তি হয়তো আমাদের জন্য আশার আলো না হয়ে নতুন করে অনেক সমস্যার জন্ম দেবে।

ন্যায়বিচার আর সমতার কঠিন পরীক্ষা

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে যারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত, যেমন দরিদ্র দেশগুলো বা ছোট দ্বীপরাষ্ট্রগুলো, তাদের কি এই প্রকৌশলের সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়ায় যথেষ্ট ভূমিকা থাকবে? নাকি প্রভাবশালী ও ধনী দেশগুলো নিজেদের সুবিধার জন্য একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়ে নেবে? এই প্রশ্নটা আমার মনে ভীষণভাবে নাড়া দেয়। যখন ধনী দেশগুলো নিজেদের শিল্পায়ন বাড়িয়ে প্রচুর পরিমাণে কার্বন নির্গমন করেছে, তখন তার ফল ভোগ করছে গরীব দেশগুলো, যাদের কার্বন নির্গমনে অবদান খুব কম। এখন যখন সমাধান আসছে, তখন কি তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে? এটা শুধু পরিবেশগত সমস্যা নয়, এটা মানবাধিকারের প্রশ্নও বটে। আমরা যদি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে না পারি, তাহলে এই প্রযুক্তি যতই শক্তিশালী হোক না কেন, তা কেবল নতুন করে বৈষম্য তৈরি করবে। দুর্বল দেশগুলোর উপর প্রযুক্তিগত সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়াটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তাই, সবার অংশগ্রহণ এবং সমতা নিশ্চিত করা এই প্রক্রিয়ার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হওয়া উচিত।

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি আমাদের দায়িত্ব

আমরা যদি এখন এমন কোনো প্রযুক্তি ব্যবহার করি, যার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব সম্পর্কে আমরা এখনো নিশ্চিত নই, তাহলে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপর কী ধরনের বোঝা চাপিয়ে দেব? তারা কি আমাদের এই সিদ্ধান্তের জন্য প্রশংসা করবে নাকি দোষারোপ করবে? আমার মনে হয়, একটা বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আমাদের খুব সাবধানে পা ফেলতে হবে। কারণ, একবার যদি কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তাহলে তার ফল আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে ভোগ করতে হবে। আমরা তো চাই না তারা এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি হোক, তাই না? এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়, যা তাদের জীবনকে আরও কঠিন করে তোলে। তাই, যেকোনো জলবায়ু প্রকৌশল প্রকল্প শুরু করার আগে এর প্রতিটি সম্ভাব্য প্রভাব, বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবগুলো খুব ভালোভাবে মূল্যায়ন করা দরকার। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি স্থিতিশীল এবং বাসযোগ্য পৃথিবী রেখে যাওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব, এবং এই দায়িত্ব পূরণে আমাদের সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

আমার ভাবনা: এটা কি শেষ ভরসা নাকি স্রেফ একটা অজুহাত?

জলবায়ু প্রকৌশল নিয়ে যখনই আলোচনা হয়, তখন আমার মনে একটা প্রশ্ন বারবার উঁকি দেয়: এটা কি সত্যিই আমাদের শেষ ভরসা, নাকি আমরা নিজেদের ভুল শোধরানোর পরিবর্তে একটা সহজ অজুহাত খুঁজছি? প্রযুক্তিগত সমাধান নিঃসন্দেহে চমকপ্রদ এবং কিছু ক্ষেত্রে কার্যকরী হতে পারে, কিন্তু সমস্যার মূলে যদি আমরা আঘাত না করি, তাহলে কি আদৌ কোনো স্থায়ী সমাধান সম্ভব? আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, শুধুমাত্র প্রযুক্তির উপর ভরসা করে বসে থাকলে চলবে না। আমাদের জীবনযাত্রার ধরণ পাল্টানো, সচেতন হওয়া এবং পরিবেশবান্ধব অভ্যাস গড়ে তোলা – এগুলোই আসল সমাধান। আমি নিজেও চেষ্টা করি যতটা সম্ভব পরিবেশবান্ধব থাকতে, কারণ ছোট ছোট পরিবর্তনগুলোও অনেক বড় প্রভাব ফেলে।

শুধু প্রযুক্তির উপর ভরসা না করে মূল সমস্যার সমাধান

আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়, আমরা যেন এই ‘জলবায়ু প্রকৌশল’কে একটা ম্যাজিক বুলেট হিসেবে না দেখি। মূল সমস্যাটা হলো কার্বন নির্গমন কমানো, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানো এবং সবুজ শক্তির দিকে যাওয়া। এসব কাজ না করে শুধু প্রকৌশলের উপর ভরসা করাটা অনেকটা জ্বর হলে থার্মোমিটার না দেখে শুধু ব্যথানাশক খাওয়ার মতো। সমস্যার মূলে না গিয়ে উপরি উপরি সমাধান খুঁজতে থাকলে আদতে কোনো স্থায়ী লাভ হবে না। আমাদের নিজেদের জীবনযাপন পদ্ধতি পাল্টানো, সচেতনতা বাড়ানো এবং পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়া – এগুলোই আসল সমাধান। আমরা যদি কার্বন নির্গমন কমানোর ক্ষেত্রে আমাদের প্রচেষ্টা ধীর করে দেই এই ভেবে যে ‘প্রকৌশল তো আছেই’, তাহলে সেটা হবে আত্মঘাতী। তাই, আমাদের উচিত মূল কারণগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোর সমাধানে মনোনিবেশ করা।

সতর্কতার নীতি: অজানা পথে পা না বাড়ানোই ভালো

যখন কোনো কাজের সম্ভাব্য খারাপ প্রভাব সম্পর্কে আমরা নিশ্চিত নই, তখন সেই কাজ থেকে বিরত থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ। এই নীতিকে বলা হয় ‘সতর্কতার নীতি’। জলবায়ু প্রকৌশলের ক্ষেত্রেও এটা খুব প্রযোজ্য। যেহেতু এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব, পরিবেশগত ঝুঁকি এবং সামাজিক-রাজনৈতিক জটিলতাগুলো এখনো স্পষ্ট নয়, তাই তাড়াহুড়ো করে কোনো বড় পদক্ষেপ নেওয়া ঠিক হবে না। আমার মনে হয়, আগে সব দিক ভালোভাবে যাচাই করে তারপর এগোনো উচিত। প্রকৃতি খুবই সংবেদনশীল, এবং এর সাথে বড় আকারের যেকোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলাফল অপ্রত্যাশিত হতে পারে। আমরা জানি না, আজ যে সমাধান মনে হচ্ছে, কাল তা হয়তো আরও বড় সমস্যার জন্ম দেবে। তাই, খুব সতর্কভাবে গবেষণা চালিয়ে যাওয়া এবং সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো সম্পর্কে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বড় আকারের বাস্তবায়ন থেকে বিরত থাকাটাই বুদ্ধিমানের কাজ।

Advertisement

অর্থনৈতিক প্রভাব আর নতুন সম্ভাবনার দুয়ার

기후 엔지니어링의 리스크 관리와 윤리 - Carbon Dioxide Removal (CDR) - Nature and Innovation United**

"A vibrant, picturesque landscape sho...

জলবায়ু প্রকৌশল নিয়ে যতই বিতর্ক থাকুক না কেন, একটা জিনিস অস্বীকার করার উপায় নেই যে এর গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ নতুন নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে। যেকোনো বড় প্রযুক্তিগত অগ্রগতির মতোই, জলবায়ু প্রকৌশলের ক্ষেত্রেও বিশাল বিনিয়োগ প্রয়োজন, আর এই বিনিয়োগ শুধু পরিবেশ রক্ষার জন্যই নয়, নতুন শিল্প ক্ষেত্র তৈরি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আমার মনে হয়, স্মার্ট ইনভেস্টররা এখনই এই দিকে নজর দিচ্ছে, কারণ এটি পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিরও একটা বিশাল সুযোগ। আমরা যদি এই সুযোগটা কাজে লাগাতে পারি, তাহলে একই সাথে আমাদের গ্রহ এবং অর্থনীতি দুটোই উপকৃত হবে।

সবুজ প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ: ভবিষ্যতের অর্থনীতি

জলবায়ু প্রকৌশলের গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ নতুন নতুন সবুজ প্রযুক্তির জন্ম দিতে পারে। ধরুন, কার্বন ক্যাপচার বা সৌরশক্তির নতুন কোনো পদ্ধতি – এগুলো শুধু পরিবেশের জন্যই ভালো নয়, নতুন শিল্প ক্ষেত্রও তৈরি করবে। উন্নত কার্বন ক্যাপচার প্রযুক্তি, পরিবেশ-বান্ধব নির্মাণ সামগ্রী, বা সৌর ও বায়ুশক্তির আরও কার্যকর সমাধান – এসবই ভবিষ্যতের অর্থনীতির চালিকাশক্তি হতে পারে। অনেক স্টার্টআপ কোম্পানি এখন এই দিকে ঝুঁকছে, কারণ তারা বুঝতে পারছে যে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিই আগামীর বাজার। এই ধরনের বিনিয়োগ অর্থনীতিতে নতুন গতি আনবে এবং টেকসই উন্নয়নের পথে আমাদের এগিয়ে নিয়ে যাবে। আমার মনে হয়, সরকার এবং বেসরকারি খাতের উচিত একসঙ্গে কাজ করে এই সবুজ প্রযুক্তিগুলোকে আরও বেশি সমর্থন জানানো।

কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি

এই ধরনের বড় আকারের প্রকল্পে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হতে পারে। গবেষণা থেকে শুরু করে প্রযুক্তি তৈরি, বাস্তবায়ন, রক্ষণাবেক্ষণ পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরে নতুন নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি হবে। যেমন, কার্বন ডাই অক্সাইড অপসারণের জন্য বড় বড় প্ল্যান্ট তৈরি হলে সেখানে ইঞ্জিনিয়ার, বিজ্ঞানী, টেকনিশিয়ান এবং অন্যান্য কর্মী দরকার হবে। এমনকি সৌর প্যানেল বা বায়ুকল স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণেও দক্ষ জনবল প্রয়োজন। এসব শুধু উচ্চ শিক্ষিতদের জন্যই নয়, সাধারণ শ্রমিকের জন্যও কাজের সুযোগ তৈরি করবে। এই খাতগুলো দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায়, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে অনেক মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হতে পারে। আমার মনে হয়, সরকার এবং বেসরকারি খাত একসঙ্গে কাজ করলে এই খাতকে আরও বেশি শক্তিশালী করা যাবে এবং বেকারত্ব কমানোর একটা দারুণ উপায় হতে পারে।

সামনের পথ: একটা সুষম দৃষ্টিভঙ্গি

জলবায়ু প্রকৌশল নিয়ে যখন আমরা ভাবি, তখন মনে হয় যেন আমরা একটা কাঁটাচামচের উপর দাঁড়িয়ে আছি। একদিকে যেমন এর মাধ্যমে আমরা হয়তো আমাদের গ্রহকে বাঁচাতে পারি, তেমনি অন্যদিকে এর মাধ্যমে আরও বড় বিপদ ডেকে আনার ঝুঁকিও রয়েছে। তাই, সামনের পথটা খুব সাবধানে হেঁটে যেতে হবে। আমার মনে হয়, কোনো একতরফা সিদ্ধান্ত না নিয়ে, একটা সুষম এবং সম্মিলিত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই আমাদের এগোনো উচিত। কারণ জলবায়ু পরিবর্তন একটা বিশ্বব্যাপী সমস্যা, আর এর সমাধানও হতে হবে বিশ্বব্যাপী। কোনো একটি দেশ একা চেষ্টা করলে সফল হবে না। আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ছাড়া সমাধান অসম্ভব

জলবায়ু পরিবর্তন একটি বিশ্বব্যাপী সমস্যা, তাই এর সমাধানও হতে হবে বিশ্বব্যাপী। কোনো একটি দেশ একা চেষ্টা করলে সফল হবে না। জলবায়ু প্রকৌশলের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে আন্তর্জাতিক চুক্তি ও সহযোগিতা ছাড়া কোনো বড় পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব নয়। জাতিসংঘের মতো সংস্থাগুলো এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিভিন্ন দেশের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান, প্রযুক্তি শেয়ারিং এবং সমন্বিত পরিকল্পনা – এগুলোই হতে পারে সামনের পথ। আমার তো মনে হয়, আমরা সবাই এক পৃথিবী নামক জাহাজের যাত্রী, তাই সবাইকে একসঙ্গে দাঁড়াতে হবে এবং একসঙ্গে কাজ করতে হবে। যদি সবাই মিলে হাতে হাত রেখে কাজ না করি, তাহলে এই বিশাল সমস্যা সমাধান করা প্রায় অসম্ভব। বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা, নীতিনির্ধারকরা এবং সাধারণ মানুষ – সবারই এই আলোচনায় অংশ নেওয়া উচিত।

জনসচেতনতা ও শিক্ষার গুরুত্ব

এই প্রযুক্তি সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সঠিক তথ্য এবং সচেতনতা তৈরি করা খুব জরুরি। কারণ, শেষ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্তের প্রভাব আমাদের সকলের উপর পড়বে। যদি মানুষ এর ভালো-মন্দ দিকগুলো না বোঝে, তাহলে ভুল বোঝাবুঝি বাড়তে পারে। স্কুল, কলেজ, এমনকি আমাদের মতো ব্লগারদেরও উচিত সহজ ভাষায় এই জটিল বিষয়গুলো মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। আমি সবসময় চেষ্টা করি, কঠিন বিষয়গুলোকে গল্পের ছলে আপনাদের সামনে তুলে ধরতে, যাতে সবাই বুঝতে পারে। গণমাধ্যমেও এর সঠিক তথ্য তুলে ধরা উচিত, যাতে মানুষ কোনো গুজবে কান না দিয়ে বাস্তব তথ্য জানতে পারে। এই বিষয়ে সঠিক শিক্ষা এবং সচেতনতা তৈরি করতে পারলে মানুষ নিজেরাও এই সিদ্ধান্তের অংশ হতে পারবে এবং একটি সুস্থ ও টেকসই ভবিষ্যতের জন্য অবদান রাখতে পারবে।

Advertisement

আশার আলো: আমরা ব্যক্তি পর্যায়ে কী করতে পারি?

জলবায়ু প্রকৌশল নিয়ে অনেক বড় বড় আলোচনার মাঝে, আমরা প্রায়শই ভুলে যাই যে আমাদের ব্যক্তিগত উদ্যোগও অনেক বড় প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও এই প্রযুক্তিগুলো বিশাল আকারের সমস্যার সমাধান নিয়ে কথা বলে, কিন্তু আমাদের দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট পরিবর্তনগুলোও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমার কাছে মনে হয়, বড় বড় বিজ্ঞানীদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় না থেকে, আমরা প্রত্যেকেই নিজেদের জায়গা থেকে কিছু না কিছু করতে পারি। এই ছোট ছোট পদক্ষেপগুলো একত্রিত হয়ে এক বিশাল পরিবর্তনের জন্ম দিতে পারে, যা আমাদের পৃথিবীকে রক্ষা করতে সাহায্য করবে। তাই, আসুন, আমরা প্রত্যেকেই নিজেদের দায়িত্বটুকু পালন করি।

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ছোট ছোট পরিবর্তন

যদিও জলবায়ু প্রকৌশল বড় বড় প্রযুক্তির কথা বলে, কিন্তু আমাদের ব্যক্তিগত উদ্যোগও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করা, প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করা বা সাইকেল চালানো – এই ছোট ছোট কাজগুলোও কিন্তু অনেক বড় প্রভাব ফেলে। আমি নিজেও চেষ্টা করি যতটা সম্ভব নিজের কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমাতে। নিজের হাতে কাজ করতে পারলে একটা দারুণ তৃপ্তি পাওয়া যায়। যখন আমরা প্লাস্টিক বোতলের পরিবর্তে একটি পুনরায় ব্যবহারযোগ্য বোতল ব্যবহার করি, অথবা বিদ্যুতের অপচয় বন্ধ করি, তখন আমরা প্রকৃতির প্রতি আমাদের দায়িত্ব পালন করি। এই ছোট ছোট পরিবর্তনগুলো শুধুমাত্র পরিবেশের জন্যই ভালো নয়, অনেক সময় আমাদের জীবনযাত্রার খরচ কমাতেও সাহায্য করে। তাই আসুন, আমরা প্রত্যেকেই নিজেদের দৈনন্দিন জীবনে এমন ছোট ছোট পরিবর্তন আনার চেষ্টা করি।

টেকসই উদ্যোগগুলোকে সমর্থন করা

যখন কোনো প্রতিষ্ঠান বা সরকার টেকসই পরিবেশের জন্য ভালো কোনো উদ্যোগ নেয়, তখন আমাদের উচিত সেগুলোকে সমর্থন করা। এটা হতে পারে সবুজ পণ্য কেনা, পরিবেশবান্ধব প্রকল্পগুলোতে অর্থ দান করা বা পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর সঙ্গে যুক্ত হওয়া। আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এই গ্রহকে বাঁচানোর জন্য অত্যন্ত জরুরি। শুধু সমালোচনা না করে, যারা ভালো কাজ করছে তাদের উৎসাহিত করাও আমাদের দায়িত্ব। আমরা নিজেদের কণ্ঠস্বরকে ব্যবহার করে সরকারকে আরও বেশি পরিবেশবান্ধব নীতি গ্রহণ করতে উৎসাহিত করতে পারি। চলুন, আমরা সবাই মিলে একটা সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখি এবং সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য কাজ করি। কারণ, এই পৃথিবীটা আমাদের সবার, আর একে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্বও আমাদের সবার।

글을마치며

জলবায়ু প্রকৌশল নিয়ে এতক্ষণ আমরা যে আলোচনা করলাম, তাতে হয়তো আপনাদের মনে অনেক প্রশ্ন এবং ভাবনা ঘুরপাক খাচ্ছে। আমার কাছেও এই বিষয়টি যেন একদিকে আশার আলো দেখাচ্ছে, আবার অন্যদিকে কিছুটা ভয়ও ধরাচ্ছে। আমরা দেখেছি যে, এই প্রযুক্তিগুলো বৈশ্বিক উষ্ণতা কমানোর জন্য নতুন পথ দেখালেও এর পেছনে লুকিয়ে আছে অনেক অনিশ্চয়তা আর বড় ধরনের ঝুঁকি। আমাদের মনে রাখতে হবে, প্রকৃতিকে আমরা যতই নিয়ন্ত্রণ করতে চাই না কেন, এর নিজস্ব একটা ছন্দ আছে, যা ভাঙলে অনেক সময় অপ্রত্যাশিত বিপদ নেমে আসে। তাই, এই ধরনের কোনো বড় পদক্ষেপ নেওয়ার আগে আমাদের খুব সতর্ক থাকতে হবে, সবদিক ভালোভাবে ভেবেচিন্তে এগোতে হবে। শুধু প্রযুক্তির উপর ভরসা না করে, আমাদের জীবনযাত্রার ধরণ পাল্টানো এবং পরিবেশের প্রতি আরও যত্নশীল হওয়াটা যে কতটা জরুরি, তা যেন আমরা কখনো ভুলে না যাই। আসলে, এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান আমাদের নিজেদের হাতেই, আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই সম্ভব।

Advertisement

알াছুধা মেনা সুমলা ইনানা থট

১. আপনার বাড়িতে ব্যবহৃত বিদ্যুতের পরিমাণ কমানোর চেষ্টা করুন। অপ্রয়োজনে আলো, পাখা বা এসি বন্ধ রাখুন এবং শক্তি-সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করুন। এতে পরিবেশ বাঁচবে, খরচও কমবে।

২. প্লাস্টিকের ব্যবহার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন। একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের বোতল বা ব্যাগ ব্যবহার না করে, পুনঃব্যবহারযোগ্য জিনিসপত্র ব্যবহার করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। ছোট ছোট পদক্ষেপগুলো পরিবেশের জন্য অনেক বড় পার্থক্য গড়ে তোলে।

৩. গণপরিবহন ব্যবহার করুন অথবা হেঁটে বা সাইকেলে চলুন। ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমালে কার্বন নির্গমন অনেক কমে যায়। এতে আপনার স্বাস্থ্যও ভালো থাকবে।

৪. গাছ লাগানোর মতো সহজ কিন্তু কার্যকরী একটি কাজ করুন। আপনার বাড়ির আশেপাশে বা ছাদে ছোট গাছ লাগাতে পারেন। গাছ শুধু কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে না, পরিবেশকে শীতলও রাখে।

৫. জলবায়ু পরিবর্তন এবং পরিবেশ সম্পর্কে নিয়মিত জানুন এবং আপনার বন্ধু-বান্ধব ও পরিবারের সদস্যদের সচেতন করুন। সঠিক তথ্য অন্যদের মধ্যেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে উৎসাহিত করবে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সংক্ষেপে

জলবায়ু প্রকৌশল নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিল বিষয়, যা আমাদের ভবিষ্যতের উপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। আমরা দেখলাম যে, সূর্যের আলো প্রতিফলিত করা বা বাতাস থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড অপসারণের মতো পদ্ধতিগুলো তাপমাত্রা কমানোর একটি উপায় হতে পারে। কিন্তু এই চমকপ্রদ সমাধানের আড়ালে লুকিয়ে আছে অপ্রত্যাশিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের ঝুঁকি। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, এই ধরনের প্রযুক্তির উপর সম্পূর্ণ ভরসা করার আগে আমাদের অবশ্যই এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবগুলো নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ গবেষণা করা উচিত। নৈতিকতার প্রশ্নগুলো, যেমন – কে সিদ্ধান্ত নেবে, কার লাভ হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি আমাদের দায়িত্ব কী, এগুলো এড়িয়ে গেলে চলবে না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, শুধুমাত্র প্রযুক্তির উপর নির্ভর না করে কার্বন নির্গমন কমানোর মতো মূল সমস্যার সমাধানে মনোযোগ দেওয়া। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া এই বিশাল বৈশ্বিক সমস্যা সমাধান করা প্রায় অসম্ভব। তাই, একটা সুষম দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে, যাতে আমরা আমাদের সুন্দর পৃথিবীকে রক্ষা করতে পারি। মনে রাখবেন, ছোট ছোট ব্যক্তিগত উদ্যোগও একটি বৃহত্তর পরিবর্তনের অংশ হয়ে উঠতে পারে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) 📖

প্র: জলবায়ু প্রকৌশল (Climate Engineering) বলতে আসলে কী বোঝায়? এটা কি শুধু বড় বড় বিজ্ঞানীদের ব্যাপার, নাকি আমাদের মতো সাধারণ মানুষেরও এতে কোনো ভূমিকা আছে?

উ: দেখুন, সহজ কথায় বলতে গেলে জলবায়ু প্রকৌশল হলো এমন কিছু বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতি, যা দিয়ে আমরা পৃথিবীর জলবায়ু ব্যবস্থাকে ইচ্ছাকৃতভাবে পরিবর্তন করার চেষ্টা করি। এর মূল উদ্দেশ্য হলো বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বা গ্লোবাল ওয়ার্মিং-এর খারাপ প্রভাবগুলো কমানো। আমার কাছে এটা যেন একটা বড়সড় পরীক্ষা, যেখানে আমরা প্রকৃতিকে একটু নিজেদের মতো করে সাজানোর চেষ্টা করছি। বিজ্ঞানীরা মূলত দুটো প্রধান উপায়ের কথা ভাবছেন: একটা হলো ‘সৌর বিকিরণ ব্যবস্থাপনা’ (Solar Radiation Management – SRM), যেখানে সূর্যের আলো পৃথিবীতে পৌঁছানোর আগেই কিছু অংশকে মহাকাশে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। যেমন, স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে এরোসল স্প্রে করে বা মেঘকে উজ্জ্বল করে। আরেকটা হলো ‘কার্বন ডাই অক্সাইড অপসারণ’ (Carbon Dioxide Removal – CDR), যেখানে বায়ুমণ্ডল থেকে সরাসরি কার্বন ডাই অক্সাইড সরিয়ে নেওয়া হয়। গাছ লাগিয়ে, বায়োএনার্জি ব্যবহার করে বা সরাসরি বায়ু থেকে কার্বন ধরে। আমার মনে হয়, এই বিষয়টা শুধু বিজ্ঞানীদেরই নয়, আমাদের সবারই জানা দরকার। কারণ এর প্রভাব কিন্তু আমাদের দৈনন্দিন জীবনেও পড়তে পারে।

প্র: জলবায়ু প্রকৌশল কি সত্যিই আমাদের জলবায়ু সংকটের শেষ সমাধান, নাকি এর পেছনেও বড় কোনো বিপদ লুকিয়ে আছে?

উ: আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, কোনো সমস্যার একটামাত্র জাদুকরি সমাধান হয় না। জলবায়ু প্রকৌশল শুনতে হয়তো দারুণ লাগে, কিন্তু এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনেক বড় ঝুঁকি আর অপ্রত্যাশিত চ্যালেঞ্জ। ধরুন, আপনি এক জায়গায় ওষুধ দিলেন, আর তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেল অন্য কোথাও!
যেমন, সৌর বিকিরণ ব্যবস্থাপনা হয়তো তাপমাত্রা কিছুটা কমাতে পারে, কিন্তু এর ফলে আঞ্চলিক আবহাওয়ার ধরন বদলে যেতে পারে। কোথাও হয়তো বৃষ্টি কমে যাবে, কোথাও বেড়ে যাবে অপ্রত্যাশিতভাবে। এতে খরা বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ আরও ভয়াবহ হতে পারে। আবার কার্বন অপসারণের পদ্ধতিগুলোও বেশ ব্যয়বহুল এবং বড় আকারের জমি বা শক্তি প্রয়োজন হতে পারে, যা পরিবেশের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করবে। তাই আমার মনে হয়, তাড়াহুড়ো করে কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে এর সব দিক ভালোভাবে বিশ্লেষণ করা জরুরি। আমরা তো চাই না একটা সমস্যা সমাধান করতে গিয়ে আরেকটা বড় সমস্যায় পড়ি, তাই না?

প্র: জলবায়ু প্রকৌশল নিয়ে যে নৈতিক বিতর্ক চলছে, তাতে প্রধানত কী কী প্রশ্ন উঠে আসছে? এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কার হাতে থাকা উচিত বলে আপনি মনে করেন?

উ: এই প্রশ্নটা আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়। যখন আমরা এত বড় আকারের কোনো পরিবর্তন আনার কথা ভাবছি, তখন নৈতিক প্রশ্নগুলো এড়ানো অসম্ভব। কে এই সিদ্ধান্ত নেবে?
কিছু শক্তিশালী দেশ কি তাদের সুবিধা মতো এই প্রযুক্তি ব্যবহার করবে? এর ফলে ধনী দেশগুলো হয়তো তাদের কার্বন নিঃসরণ কমানোর দায়ভার থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নিতে চাইবে। আবার, যদি এর কোনো অপ্রত্যাশিত খারাপ প্রভাব পড়ে, তাহলে তার দায় কে নেবে?
ক্ষতিগ্রস্তদের কী হবে? বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো, যারা বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে মাত্র ০.৫% অবদান রাখে, তাদের ওপর যদি এর খারাপ প্রভাব পড়ে, তাহলে সেটা কতটা ন্যায্য হবে?
আমার মনে হয়, এই প্রযুক্তি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত কোনো একক দেশ বা গোষ্ঠীর হাতে থাকা উচিত নয়। এর জন্য একটা বৈশ্বিক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক আলোচনার প্রয়োজন, যেখানে সব দেশের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে, বিশেষ করে যারা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। এর সব ভালো-মন্দ দিক, এর সম্ভাব্য প্রভাবগুলো খুব ভালোভাবে বুঝে নেওয়া দরকার। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আমরা কেমন পৃথিবী রেখে যাব, সেটা কিন্তু আমাদের আজকের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে।

📚 তথ্যসূত্র

Advertisement