জলবায়ু প্রকৌশল ও বৈশ্বিক ন্যায়বিচার: এখনই না জানলে পস্তাবেন!

webmaster

기후 엔지니어링과 지구적 정의 - Here are three image generation prompts based on the provided text, adhering strictly to all safety ...

বন্ধুরা, কেমন আছেন সবাই? জলবায়ু পরিবর্তন এখন শুধু ভবিষ্যতের ভয় নয়, আমাদের বর্তমানের কঠিন বাস্তবতা। চারিদিকে শুনছি পৃথিবী বাঁচানোর নানা নতুন উপায়ের কথা, তার মধ্যে ‘ক্লাইমেট ইঞ্জিনিয়ারিং’ বা ‘ভূ-প্রকৌশল’ বেশ আলোচনার কেন্দ্রে। প্রথম যখন শুনি, আমার মনে হয়েছিল, বাহ!

কী দারুণ সমাধান! কিন্তু একটু গভীরে যেতেই বুঝলাম, বিষয়টা ততটা সরল নয়।আসলে, এই প্রযুক্তির হাত ধরে আমরা একদিকে যেমন নতুন আশার আলো দেখছি, তেমনই অন্যদিকে বৈশ্বিক ন্যায়বিচারের (global justice) প্রশ্নগুলো আরও জটিল হয়ে উঠছে। কে এই বিশাল প্রকল্পের সিদ্ধান্ত নেবে?

কারা এর সুবিধা পাবে আর যদি কোনো অপ্রত্যাশিত ফল আসে, তাহলে এর শিকারই বা হবে কারা? বিশেষ করে আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলো, যারা জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে কম দায়ী, তাদের উপরই এর বেশিরভাগ প্রভাব পড়তে পারে। আমি নিজে একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে যখন দেখি যে, বড় বড় দেশগুলো তাদের নিজেদের সুবিধামতো এই প্রযুক্তি ব্যবহার করতে চাইছে, তখন সত্যিই মনে প্রশ্ন জাগে – এটা কি সবার জন্য সমান সুবিচার আনবে, নাকি বৈষম্য আরও বাড়িয়ে দেবে?

আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আমরা কেমন পৃথিবী দেব, এই ভাবনাটা আমাকে ভীষণভাবে নাড়া দেয়। এই জটিল বিষয়ে আরও গভীরে প্রবেশ করে চলুন, আমরা আজকের লেখায় এর সব দিক বিস্তারিতভাবে জেনে নিই।

এক অস্থির পৃথিবী: আমাদের এই সময়ের জলবায়ু সংকট

기후 엔지니어링과 지구적 정의 - Here are three image generation prompts based on the provided text, adhering strictly to all safety ...

তাপমাত্রার লাগামছাড়া দৌড়

আমার মনে আছে, ছোটবেলায় শীতকালটা বেশ জমজমাট ছিল। কনকনে ঠাণ্ডা পড়ত, আর গরমের সময়ও এত অসহ্য লাগত না। এখন যেন সব ঋতুতেই একটা অদ্ভুত অস্থিরতা। প্রচণ্ড গরমে হাঁসফাঁস করি, আবার যখন শীত আসে, তখন আর সেই তীব্রতা পাই না। প্রকৃতি যেন নিজেই তার ছন্দ হারিয়ে ফেলেছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, পৃথিবীর তাপমাত্রা নাকি গত ১০০ বছরে এক ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে গেছে, যা আপাতদৃষ্টিতে সামান্য মনে হলেও এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী। মেরু অঞ্চলের বরফ গলে সমুদ্রের উচ্চতা বাড়ছে, আর এর ফলে আমাদের উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে বন্যা আর ভাঙন এখন নিত্যদিনের ঘটনা। আমি তো প্রায়ই শুনি, সুন্দরবনের কতটা অংশ নাকি জলের নিচে চলে গেছে, আর আমাদের দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষেরা কীভাবে লবণাক্ততার সঙ্গে যুদ্ধ করে বেঁচে আছে। এই পরিবর্তনগুলো শুধু পরিসংখ্যান নয়, হাজার হাজার মানুষের জীবন ও জীবিকার উপর সরাসরি আঘাত হানছে, আর এটা দেখতে আমার সত্যিই খুব কষ্ট হয়। এই অস্বাভাবিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে আবহাওয়ার চরমভাবাপন্নতা বেড়েছে, যেমন – কোথাও খরা, কোথাও অতিবৃষ্টি, আবার কোথাও ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডব। এই সবকিছুই আমাদের অর্থনীতি, কৃষি এবং সর্বোপরি জনজীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে, যা থেকে মুক্তির পথ খোঁজা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

প্রকৃতির ভারসাম্য হারানোর ভয়

যখন ভাবি যে আমাদের এই পৃথিবী, যেখানে অজস্র জীব-জন্তু, গাছপালা, নদী-পাহাড় একে অপরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সংযুক্ত, সেই ভারসাম্যটা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, তখন ভেতরটা কেমন যেন করে ওঠে। কার্বন ডাই অক্সাইডের মাত্রা বাড়ার কারণে সমুদ্রের পানি আরও বেশি অম্লীয় হয়ে উঠছে, যা সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য এক বিশাল হুমকি। প্রবাল প্রাচীরগুলো, যা কিনা হাজারো সামুদ্রিক প্রাণীর আশ্রয়স্থল, সেগুলো বিবর্ণ হয়ে মারা যাচ্ছে। আমার মনে হয়, আমরা মানুষেরা নিজেদের সুখের জন্য প্রকৃতির উপর এত বেশি অত্যাচার করছি যে, প্রকৃতি এখন আমাদের উপর মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। এই ভারসাম্যহীনতা কেবল দূরের কোনো ঘটনা নয়, এর প্রভাব কিন্তু আমাদের দৈনন্দিন জীবনেও পড়ছে। ফসলের উৎপাদন কমছে, বিশুদ্ধ জলের অভাব দেখা দিচ্ছে, আর নতুন নতুন রোগব্যাধির প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। আমি প্রায়ই ভাবি, এই যে প্রকৃতির দেওয়া অমূল্য সম্পদ, যা আমাদের জীবন ধারণের ভিত্তি, সেটাকে আমরা কত সহজেই নষ্ট করে দিচ্ছি। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আমরা কী রেখে যাব, যদি এই প্রকৃতির সৌন্দর্য আর ঐশ্বর্য সব হারিয়ে যায়?

এই প্রশ্নগুলো যখন মনের মধ্যে ঘুরপাক খায়, তখন অস্থিরতা আরও বাড়ে।

ভূ-প্রকৌশল: যখন আমরা প্রকৃতির নিয়তি বদলাতে চাই

বিজ্ঞানীদের স্বপ্ন: পৃথিবী ঠাণ্ডা করার নতুন উপায়

প্রথম যখন ভূ-প্রকৌশল বা ক্লাইমেট ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে শুনলাম, আমার মনে হয়েছিল, ইস! যদি সত্যি সত্যি এমন কোনো প্রযুক্তি আবিষ্কার করা যেত, যা দিয়ে আমরা পৃথিবীর তাপমাত্রাটা কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণ করতে পারতাম, তাহলে কত ভালো হতো!

বিজ্ঞানীরা এই নিয়ে অনেকদিন ধরেই গবেষণা করছেন, এবং তাদের প্রধান উদ্দেশ্য হলো বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড সরিয়ে ফেলা অথবা সূর্যের আলো পৃথিবীতে পৌঁছানোর পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া। আমার মনে আছে, একবার একটা ডকুমেন্টারিতে দেখেছিলাম, কিভাবে বিজ্ঞানীরা সমুদ্রের মধ্যে লোহার কণা ছড়িয়ে প্ল্যাঙ্কটনের বৃদ্ধি ঘটাতে চাইছেন, যাতে তারা বেশি কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করতে পারে। আবার কেউ কেউ নাকি স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে সালফার ডাই অক্সাইড কণা ছড়িয়ে সূর্যরশ্মি প্রতিফলিত করার কথা ভাবছেন, যেমনটা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের পর প্রাকৃতিক উপায়ে হয়ে থাকে। এসব শুনে প্রথমে বেশ আশাবাদী হয়েছিলাম, ভেবেছিলাম হয়তো মানবজাতি এতদিনে একটা বুদ্ধিদীপ্ত সমাধান বের করতে পেরেছে। কিন্তু একটু গভীরে যেতেই বুঝলাম, এই পথটা আসলে কাঁটা বিছানো। তবে, এই গবেষণাগুলো বিজ্ঞানীদের চরম উদ্ভাবনী ক্ষমতাকে তুলে ধরে, যা আমাদের আরও গভীর ও জটিল সমস্যা সমাধানের জন্য প্রস্তুত করছে।

প্রকৃতির উপর মানুষের হস্তক্ষেপ: ভালো না মন্দ?

আমি যখন ভাবি যে মানুষ সরাসরি পৃথিবীর জলবায়ু ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করতে চাইছে, তখন মনটা দোটানায় ভোগে। একদিকে মনে হয়, এই চরম সংকটের সময়ে হয়তো এমন কিছু সাহসী পদক্ষেপের প্রয়োজন আছে। কিন্তু পরক্ষণেই মনে হয়, প্রকৃতি তো তার নিজের নিয়মে চলে, আমরা মানুষ হয়ে এর সূক্ষ্ম ভারসাম্যকে কতটা বুঝি?

আমরা যদি নিজেদের সুবিধামতো প্রকৃতিকে বদলাতে চাই, তাহলে তার ফল কী হতে পারে, তা কি আমরা সত্যিই জানি? সমুদ্রের মধ্যে যদি আমরা রাসায়নিক পদার্থ ছড়াই, তাহলে সামুদ্রিক ইকোসিস্টেমের উপর তার কী প্রভাব পড়বে?

স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে কণা ছড়ালে বৃষ্টিপাতের ধরন পাল্টে যেতে পারে, যার ফলে হয়তো কোনো অঞ্চলের কৃষি ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। কে দেবে এই ক্ষতির দায়?

আমার মনে পড়ে, ছোটবেলায় দাদু বলতেন, “প্রকৃতিকে ঘাঁটাতে নেই, তার ফল ভালো হয় না।” আজ বিজ্ঞান যখন এতদূর এগিয়েছে, তখন দাদুদের সেই প্রাচীন প্রজ্ঞাগুলো যেন আরও বেশি প্রাসঙ্গিক মনে হয়। এই প্রযুক্তিগুলোর প্রয়োগের ফলে অপ্রত্যাশিত প্রাকৃতিক প্রতিক্রিয়া হতে পারে, যা হয়তো আরও বড় বিপর্যয় ডেকে আনবে। তাই, যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আমাদের খুব সাবধানে এবং সতর্কতার সাথে প্রতিটি সম্ভাব্য দিক বিবেচনা করা উচিত।

Advertisement

অপ্রত্যাশিত ঝুঁকি: সমাধানের পথে নতুন বাধা?

অজানা ভবিষ্যৎ: প্রযুক্তির অপ্রত্যাশিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি, কোনো সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে নতুন সমস্যা তৈরি করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। ভূ-প্রকৌশল প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এই ঝুঁকিটা সবচেয়ে বেশি। বিজ্ঞানীরা হয়তো একটা নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করছেন, কিন্তু প্রকৃতির বিশাল এবং জটিল ইকোসিস্টেমে তার কী ধরনের অপ্রত্যাশিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে, তা ভবিষ্যদ্বাণী করা খুব কঠিন। ধরুন, স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে সালফার কণা ছড়িয়ে সূর্যের আলো কমানো হলো। এর ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা হয়তো কিছুটা কমবে, কিন্তু এর প্রভাব কি বৃষ্টিপাতের উপর পড়বে না?

হয়তো কোনো অঞ্চলে খরা দেখা দেবে, আবার অন্য কোনো অঞ্চলে অতিবৃষ্টিতে বন্যা হবে। আমি প্রায়ই ভাবি, আমাদের মতো কৃষিপ্রধান দেশে, যেখানে লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন কৃষির উপর নির্ভরশীল, সেখানে যদি এমন কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটে, তাহলে তার দায় কে নেবে?

এই প্রযুক্তিগুলোর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান এখনো খুব সীমিত। জলবায়ু পরিবর্তনের জটিল প্রক্রিয়াকে বোঝার চেষ্টা করতে গিয়ে আমরা হয়তো আরও বড় এক ফাঁদে পড়ে যাবো। এটা অনেকটা নিজের রোগ সারানোর জন্য এমন এক ওষুধ খাওয়ার মতো, যার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে আমাদের বিন্দুমাত্র ধারণা নেই।

কার্বন অপসারণের বিভ্রম: আসল সমাধান কী?

আমার মনে হয়, ভূ-প্রকৌশলের সবচেয়ে বড় বিপদ হলো এটি আমাদের মধ্যে একটি মিথ্যা আশ্বাস তৈরি করতে পারে। যখন আমরা ভাবি যে প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমরা কার্বন ডাই অক্সাইড বায়ুমণ্ডল থেকে সরিয়ে নিতে পারব বা সূর্যের আলো কমিয়ে দিতে পারব, তখন আমাদের মধ্যে আসল সমস্যা সমাধানের আগ্রহ কমে যায়। মনে হয়, “আরে, প্রযুক্তি তো আছেই, এখনই কার্বন নির্গমন কমানোর কী দরকার?” এই মানসিকতাটা ভীষণ বিপজ্জনক। কারণ, মূল সমস্যা হলো জীবাশ্ম জ্বালানির অত্যধিক ব্যবহার এবং দূষণ। এই ভূ-প্রকৌশলগুলো আসলে কেবল লক্ষণগুলোর চিকিৎসা করছে, কিন্তু রোগের মূল কারণটা দূর করছে না। আমি নিজে দেখেছি, কিভাবে বড় বড় কোম্পানিগুলো পরিবেশ দূষণ করেও নিজেদের ‘পরিবেশ-বান্ধব’ দেখানোর চেষ্টা করে। এই প্রযুক্তিগুলো তাদের জন্য একটা বড় অজুহাত হয়ে দাঁড়াতে পারে, যাতে তারা তাদের দূষণকারী কার্যকলাপ চালিয়ে যেতে পারে। আমরা যদি এই বিভ্রমের ফাঁদে পা দিই, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে আমরা আরও বড় সংকটে পড়ব, কারণ জলবায়ু পরিবর্তনের মূল কারণগুলো অপ্রতিরোধ্যভাবে বাড়তেই থাকবে।

ক্ষমতার অসমতা: কে নেবে পৃথিবীর ভবিষ্যৎ গড়ার ভার?

কয়েকজনের হাতে পৃথিবীর ভাগ্য

এই বিষয়টা আমাকে সত্যিই ভীষণ ভাবায়। ভূ-প্রকৌশলের মতো বিশাল এবং ব্যয়বহুল প্রকল্পগুলো পরিচালনার সিদ্ধান্ত কে নেবে? কোন দেশগুলো এই প্রযুক্তিগুলো নিয়ে কাজ করবে?

সম্ভবত বিশ্বের শক্তিশালী এবং ধনী দেশগুলোই এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রাখে। কিন্তু তাদের সিদ্ধান্ত কি আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য সমানভাবে সুবিচার বয়ে আনবে?

আমার মনে হয় না। বড় দেশগুলো হয়তো তাদের নিজেদের স্বার্থকেই বেশি গুরুত্ব দেবে। যেমন, তাদের হয়তো এমন তাপমাত্রার প্রয়োজন, যা আমাদের অঞ্চলের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। আমি যখন দেখি যে, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য যারা সবচেয়ে কম দায়ী, তারাই এর সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হচ্ছে, তখন সত্যি বলতে খুব রাগ হয়। আর এখন যদি সেই প্রভাবশালী দেশগুলোই নিজেদের মতো করে এই পৃথিবীর ভাগ্য নির্ধারণের ক্ষমতা পায়, তাহলে তো আর কোনো কথাই নেই!

এটা এক ধরনের ‘ক্লাইমেট কলোনিয়ালিজম’-এর মতো, যেখানে গুটিকয়েক দেশের সিদ্ধান্তে বাকি বিশ্বের মানুষ প্রভাবিত হচ্ছে, যাদের এই সিদ্ধান্তে কোনো হাত নেই। এই ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হওয়ার কারণে ন্যায়বিচারের সম্ভাবনা আরও কমে যায়।

বৈশ্বিক ন্যায়বিচারের প্রশ্ন: লাভ-ক্ষতির হিসেব

ভূ-প্রকৌশল প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বৈশ্বিক ন্যায়বিচারের প্রশ্নটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ধরুন, কোনো এক দেশ সমুদ্রের উপর এমন একটা প্রযুক্তি প্রয়োগ করল, যার ফলে তাদের অঞ্চলে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পেল, কিন্তু আমাদের দেশে বৃষ্টিপাত কমে গেল, আর তার ফলে খরা দেখা দিল। তাহলে এই ক্ষতির দায় কে নেবে?

আর আমরাই বা এর জন্য ক্ষতিপূরণ পাবো কিভাবে? এই প্রযুক্তিগুলো যদি অপ্রত্যাশিত ক্ষতিও করে, তবে তার ভার কাকে বহন করতে হবে, সেই বিষয়ে কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি বা সুস্পষ্ট নিয়মকানুন নেই। আমার মনে হয়, বড় দেশগুলো তাদের নিজেদের লাভের জন্য এই প্রযুক্তিগুলো ব্যবহার করবে, কিন্তু যদি কোনো ক্ষতি হয়, তাহলে তার প্রভাব পড়বে আমাদের মতো গরিব দেশগুলোর উপর। এই বৈষম্যটা খুব স্পষ্ট। আমাদের অবশ্যই এই বিষয়ে সোচ্চার হতে হবে এবং দাবি জানাতে হবে যেন কোনো একতরফা সিদ্ধান্ত না নেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক স্তরে একটি স্বচ্ছ এবং ন্যায়সম্মত কাঠামো তৈরি করা জরুরি, যেখানে সবাই সমানভাবে নিজেদের মতামত জানাতে পারে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার প্রতিকার পেতে পারে।

Advertisement

বঞ্চিতদের জন্য ন্যায়বিচার: দরিদ্র দেশের কি হবে?

기후 엔지니어링과 지구적 정의 - Prompt 1: Resilient Coastal Community Adapting to Climate Change**

জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার: আরও এক আঘাত

আমি প্রায়ই শুনি যে, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে কম দায়ী হলো আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলো। শিল্পায়নের মাধ্যমে যে দেশগুলো নিজেদের সমৃদ্ধ করেছে, তারাই মূলত কার্বন নির্গমনের জন্য দায়ী। অথচ, যখন জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড় হয়, তখন তার শিকার হয় আমাদের দেশের দরিদ্র মানুষগুলো। তাদের জীবন-জীবিকা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এইটা কি এক ধরনের অন্যায় নয়?

আর এখন যদি ভূ-প্রকৌশলের মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, যার ফলে অপ্রত্যাশিত কোনো দুর্যোগ আসে, তার ফলও তো আমাদেরকেই ভোগ করতে হবে। এটা যেন এক ধরনের ডবল স্ট্যান্ডার্ড। যারা সমস্যা তৈরি করেছে, তারাই আবার সমাধান করতে গিয়ে আরও নতুন সমস্যা তৈরি করছে, আর তার ভার বইতে হচ্ছে আমাদের। আমার মনে হয়, এই পুরো ব্যবস্থাটাতেই একটা গভীর অসামঞ্জস্যতা রয়েছে। আমাদের দেশের মানুষেরা এমনিতেই নানা প্রতিকূলতার সাথে সংগ্রাম করে বেঁচে আছে। এর উপর যদি এই নতুন প্রযুক্তির কারণে তাদের আরও দুর্ভোগ পোহাতে হয়, তাহলে তা একেবারেই অমানবিক।

একতরফা সিদ্ধান্তের বিপদ

আমার মনে হয়, ভূ-প্রকৌশল নিয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই বিশ্বের সব দেশের মতামত নেওয়া উচিত, বিশেষ করে সেই দেশগুলোর, যারা জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। কিন্তু বাস্তবে কি এমনটা হবে?

আমার তো মনে হয় না। প্রভাবশালী দেশগুলো হয়তো নিজেদের বিজ্ঞানীদের গবেষণা এবং নিজেদের স্বার্থের উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেবে। আমরা যারা এই পরিবর্তনের ফলে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি, তাদের মতামত কি সত্যিই শোনা হবে?

আমি প্রায়ই দেখি, বড় বড় আন্তর্জাতিক ফোরামেও আমাদের দেশের কণ্ঠস্বর ততটা জোরালো থাকে না। এই একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতাটা খুবই বিপজ্জনক, কারণ এর ফলে বৈষম্য আরও বাড়বে এবং দরিদ্র দেশগুলোর প্রতি অবিচার আরও প্রকট হবে। একটি ন্যায়ভিত্তিক পৃথিবী গড়ার জন্য এটা অত্যন্ত জরুরি যে, সব দেশের প্রতিনিধিত্ব থাকবে এবং সব কণ্ঠস্বর সমানভাবে শোনা হবে। অন্যথায়, এই প্রযুক্তিগুলো সমস্যার সমাধান না করে বরং আরও গভীর সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করবে।

ভূ-প্রকৌশলের প্রধান কৌশল কার্যপদ্ধতি সম্ভাব্য লাভ ও ঝুঁকি
সৌর বিকিরণ ব্যবস্থাপনা (Solar Radiation Management – SRM) বায়ুমণ্ডলের উপরের স্তরে (স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে) অ্যারোসল কণা ছড়িয়ে সূর্যের আলো পৃথিবীতে আসতে বাধা দেওয়া।

লাভ: দ্রুত তাপমাত্রা কমাতে সাহায্য করতে পারে।

ঝুঁকি: বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন, ওজোন স্তরের ক্ষতি, আঞ্চলিক আবহাওয়ার উপর অপ্রত্যাশিত প্রভাব, প্রযুক্তির উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং একবার শুরু করলে বন্ধ করা কঠিন হতে পারে।

কার্বন ডাই অক্সাইড অপসারণ (Carbon Dioxide Removal – CDR) বায়ুমণ্ডল থেকে সরাসরি কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে তা ভূগর্ভে বা অন্য কোনো স্থানে সংরক্ষণ করা। এর মধ্যে আছে বৃক্ষরোপণ, বায়োএনার্জি উইথ কার্বন ক্যাপচার (BECCS), ডাইরেক্ট এয়ার ক্যাপচার (DAC), সমুদ্র ফার্টিলাইজেশন ইত্যাদি।

লাভ: বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ সরাসরি কমাতে সাহায্য করে, যা গ্রিনহাউস গ্যাসের মূল উৎস।

ঝুঁকি: অনেক বেশি শক্তি ও জমি প্রয়োজন, উচ্চ খরচ, দীর্ঘমেয়াদী কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন, সমুদ্র ফার্টিলাইজেশনের ক্ষেত্রে সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের উপর অজানা প্রভাব।

একসাথে পথ চলা নাকি একতরফা সিদ্ধান্ত?

সবার অংশগ্রহণ: একমাত্র পথ

আমার মনে হয়, এই ধরনের বৈশ্বিক সংকটের মোকাবিলা করার জন্য পৃথিবীর সব দেশের, সব মানুষের একসাথে কাজ করাটা ভীষণ জরুরি। ভূ-প্রকৌশলের মতো একটা সংবেদনশীল প্রযুক্তির বিষয়ে কোনো একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়াটা একেবারেই ঠিক হবে না। বিশ্বের সব দেশ, ছোট-বড় নির্বিশেষে, তাদের বিজ্ঞানী, নীতিনির্ধারক, এবং সাধারণ মানুষের মতামত নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক ফোরাম তৈরি করা উচিত। এই ফোরামে প্রতিটি প্রস্তাবিত প্রযুক্তির সুবিধা, অসুবিধা, সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং নৈতিক দিকগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়া দরকার। আমার বিশ্বাস, যদি আমরা সবাই মিলে একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাজ করি, তবেই আমরা একটি ন্যায়সঙ্গত এবং কার্যকর সমাধান খুঁজে পেতে পারি। শুধু ক্ষমতাশালী দেশগুলো যদি নিজেদের মতো করে সিদ্ধান্ত নিতে থাকে, তাহলে তা বিশ্বজুড়ে অবিশ্বাস এবং সংঘাত সৃষ্টি করবে, যা এই সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলবে। আসুন, আমরা এমন একটি বিশ্ব গড়ার চেষ্টা করি, যেখানে সবাই সমানভাবে নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে পারে এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমাদের গ্রহকে রক্ষা করতে পারে।

আন্তর্জাতিক সহযোগিতা: সেতু বন্ধনের উপায়

আমি প্রায়ই ভাবি, এই পৃথিবীতে এত বিভেদ কেন? জলবায়ু পরিবর্তনের মতো একটি সর্বজনীন সমস্যার মোকাবিলা করার জন্য কেন আমরা একসাথে কাজ করতে পারি না? ভূ-প্রকৌশলের মতো স্পর্শকাতর প্রযুক্তির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অপরিহার্য। এর জন্য প্রয়োজন স্বচ্ছতা, বিশ্বাস এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া। ধনী দেশগুলোর উচিত দরিদ্র দেশগুলোকে প্রযুক্তিগত এবং আর্থিক সহায়তা দেওয়া, যাতে তারাও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সমানভাবে অংশ নিতে পারে। শুধু তাই নয়, এই প্রযুক্তিগুলোর গবেষণার ফল এবং এর ব্যবহার নিয়ে সব তথ্য উন্মুক্ত করা উচিত, যাতে কেউ গোপনভাবে কোনো কাজ করতে না পারে। আমার মনে হয়, যদি আমরা একে অপরের প্রতি বিশ্বাস রাখতে পারি এবং সহযোগিতার হাত বাড়াতে পারি, তাহলেই আমরা এই কঠিন চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে পারব। বৈষম্য আর বিভেদ শুধু আমাদের সমস্যাকেই বাড়াবে। এই ধরনের বৈশ্বিক সমস্যার সমাধান এককভাবে কোনো দেশ বা গোষ্ঠীর পক্ষে সম্ভব নয়। তাই, আসুন, আমরা সবাই মিলে একটি সুষম ও ন্যায়সঙ্গত বিশ্ব গড়ার চেষ্টা করি, যেখানে প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা পায় এবং সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি হয়।

Advertisement

আমার ভাবনা: ভবিষ্যতের জন্য বাস্তবসম্মত পথ

শুধু প্রযুক্তিই সমাধান নয়, জীবনযাত্রার পরিবর্তনও জরুরি

আমার মনে হয়, আমরা প্রায়ই একটা ভুল করি। আমরা মনে করি, প্রযুক্তিই সব সমস্যার সমাধান করে দেবে। ভূ-প্রকৌশল নিয়ে এত আলোচনার মাঝে আমার প্রায়ই মনে হয়, আমরা কি আসল কাজটা থেকে সরে আসছি?

আসল কাজটা হলো আমাদের জীবনযাত্রার পরিবর্তন করা। আমাদের সবার উচিত কার্বন নির্গমন কমানো, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানো, নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে ফেরা, আর পরিবেশ দূষণ বন্ধ করা। এই কাজগুলো প্রতিটি ব্যক্তি, প্রতিটি পরিবার, প্রতিটি সমাজ এবং প্রতিটি দেশের জন্য জরুরি। আমি নিজেও চেষ্টা করি, যখন অপ্রয়োজনে বিদ্যুৎ ব্যবহার না করতে, প্লাস্টিকের ব্যবহার কমাতে। এই ছোট ছোট পরিবর্তনগুলো হয়তো একার পক্ষে খুব বেশি কিছু নয়, কিন্তু যখন লক্ষ লক্ষ মানুষ একসাথে এই কাজগুলো করে, তখন তার একটা বিশাল প্রভাব পড়ে। প্রযুক্তি নিশ্চয়ই আমাদের সাহায্য করতে পারে, কিন্তু এটি কখনোই আমাদের দায়িত্ব থেকে মুক্তি দিতে পারে না। আমাদের সচেতনতা এবং আচরণগত পরিবর্তন ছাড়া এই সংকট থেকে বের হওয়া সম্ভব নয়। আমার মনে হয়, প্রকৃতির সাথে মিলেমিশে বাঁচতে শেখাটাই এখন সবচেয়ে বড় শিক্ষা।

প্রজ্ঞা ও দায়িত্ববোধের সাথে এগিয়ে চলা

শেষমেষ, আমার মনে হয়, ভূ-প্রকৌশলের মতো জটিল এবং শক্তিশালী প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার সময় আমাদের সবার মধ্যে গভীর প্রজ্ঞা এবং দায়িত্ববোধ থাকা খুব জরুরি। আমাদের শুধু বৈজ্ঞানিক জ্ঞান থাকলেই চলবে না, নৈতিকতা, মানবিকতা এবং ন্যায়বিচারের দিকগুলোও বিবেচনা করতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় রাখা এবং সব মানুষের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী নিশ্চিত করা আমাদের সবারই দায়িত্ব। আসুন, আমরা এমন একটি পৃথিবী গড়ি, যেখানে প্রযুক্তি মানবজাতির কল্যাণে ব্যবহৃত হয়, কিন্তু কখনোই প্রকৃতির উপর আধিপত্য বিস্তার করতে চায় না। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন একটি সুন্দর ও সুস্থ পরিবেশে বেড়ে উঠতে পারে, সেই স্বপ্ন নিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। এই বিষয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে, আমাদের নিজেদের প্রশ্ন করতে হবে – এটা কি সত্যিই সবার জন্য ভালো হবে?

এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব কী হবে? এবং এই সিদ্ধান্তের ফলে কেউ কি ক্ষতিগ্রস্ত হবে না তো? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজা এবং সে অনুযায়ী কাজ করাটাই হবে আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

শেষ কথা

বন্ধুরা, এই যে এতক্ষণ আমরা ভূ-প্রকৌশলের জটিল দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করলাম, আমার মনে হয় আপনারা এর ভালো-মন্দ দুটো দিকই বুঝতে পেরেছেন। সত্যি বলতে, যখন জলবায়ু পরিবর্তনের মতো একটা বিশাল সংকটের মুখোমুখি হই, তখন নতুন প্রযুক্তির দিকে তাকানোটা স্বাভাবিক। কিন্তু, প্রতিটি সমাধানের পিছনে লুকিয়ে থাকা ঝুঁকিগুলো আর ন্যায়বিচারের প্রশ্নগুলো আমাদের কখনোই ভোলা উচিত নয়। আমি নিজে একজন একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে বিশ্বাস করি, প্রকৃতিকে বাঁচানো আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব। আসুন, আমরা শুধু প্রযুক্তির উপর ভরসা না করে, নিজেদের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এনে, সচেতন হয়ে, আর বিশ্বের প্রতিটি কণ্ঠস্বরকে সম্মান জানিয়ে এক সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ি। এই আলোচনাটা যদি আপনাদের মনে সামান্য হলেও নতুন ভাবনা তৈরি করে থাকে, তাহলেই আমার এই প্রচেষ্টা সার্থক।

Advertisement

কয়েকটি দরকারি তথ্য ও টিপস

১. আপনার কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমানোর জন্য চেষ্টা করুন পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করতে অথবা হেঁটে বা সাইকেলে যাতায়াত করতে। ছোট ছোট এই পরিবর্তনগুলো সম্মিলিতভাবে অনেক বড় প্রভাব ফেলে। আমি নিজেও আজকাল কাছাকাছি কোথাও যাওয়ার জন্য রিকশাকেই বেশি পছন্দ করি, এতে পরিবেশও বাঁচে আর আমারও এক টুকরো শরীরচর্চা হয়ে যায়।

২. বাড়িতে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করুন। অপ্রয়োজনে লাইট, ফ্যান বা এসি বন্ধ রাখুন। LED বাল্ব ব্যবহার করুন, যা কম বিদ্যুৎ খরচ করে। পুরনো ইলেকট্রনিক্সগুলো বদলে ফেলুন, কারণ সেগুলো বেশি শক্তি শোষণ করে। এই অভ্যাসগুলো শুধু পরিবেশ বাঁচায় না, আপনার বিদ্যুতের বিলও কমিয়ে দেয় – যা আমার মতো মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য একটা বড় স্বস্তি!

৩. প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানোর চেষ্টা করুন। বাজারে যাওয়ার সময় নিজের ব্যাগ নিয়ে যান, প্লাস্টিকের বোতলের বদলে আবার ব্যবহারযোগ্য বোতল ব্যবহার করুন। আমাদের ছোটবেলায় দেখেছি, মায়েরা সবজি বা বাজার করতে গেলে কাপড়ের ব্যাগ নিয়ে যেতেন, সেই অভ্যাসটা ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি। প্লাস্টিক আমাদের পরিবেশের জন্য এক নীরব ঘাতক।

৪. গাছ লাগান এবং অন্যদেরও গাছ লাগাতে উৎসাহিত করুন। গাছ অক্সিজেন দেয় এবং কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে বায়ুমণ্ডলকে বিশুদ্ধ রাখে। আপনার বাড়ির আশেপাশে বা ছাদে ছোটখাটো বাগান তৈরি করতে পারেন। নিজের হাতে লাগানো একটা চারা যখন বড় হয়, তখন যে আনন্দ হয়, সেটা সত্যিই অতুলনীয়।

৫. জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতন থাকুন এবং আপনার এলাকার স্থানীয় উদ্যোগগুলোতে অংশ নিন। এই বিষয়ে আপনার বন্ধুদের, পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলুন। সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া এই বিশাল সমস্যা মোকাবেলা করা সম্ভব নয়। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে এই দায়িত্বগুলো পালন করা আমাদের সবার কর্তব্য।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি সংক্ষেপে

আমাদের আজকের আলোচনা থেকে আমরা কয়েকটি বিষয় পরিষ্কারভাবে জানতে পারলাম। প্রথমত, জলবায়ু পরিবর্তন একটি গুরুতর সমস্যা যা আমাদের গ্রহকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে, এবং এর মোকাবিলা করা আমাদের সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। দ্বিতীয়ত, ভূ-প্রকৌশল বা ক্লাইমেট ইঞ্জিনিয়ারিং এমন একটি আধুনিক প্রযুক্তি যা পৃথিবীর তাপমাত্রা কমানো বা কার্বন অপসারণে সাহায্য করতে পারে, কিন্তু এর সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলোও অনেক বেশি। অপ্রত্যাশিত প্রাকৃতিক প্রতিক্রিয়া এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান এখনো সীমিত, যা বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, কোনো সমস্যার সম্পূর্ণ সমাধান না করে কেবল লক্ষণগুলোর চিকিৎসা করলে তা ভবিষ্যতে আরও বড় বিপদ নিয়ে আসে।

তৃতীয়ত, ভূ-প্রকৌশলের মতো শক্তিশালী প্রযুক্তি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বৈশ্বিক ন্যায়বিচার এবং ক্ষমতার অসমতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ধনী ও শক্তিশালী দেশগুলোর একতরফা সিদ্ধান্ত দরিদ্র দেশগুলোর জন্য আরও দুর্ভোগ বয়ে আনতে পারে। আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলো যারা জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে কম দায়ী, তাদের উপরই এর বেশিরভাগ বোঝা এসে পড়ে। এই বৈষম্য দূর করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং সবার অংশগ্রহণ অপরিহার্য। চতুর্থত, শুধু প্রযুক্তির উপর নির্ভর না করে আমাদের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা, কার্বন নির্গমন কমানো এবং পরিবেশের প্রতি সংবেদনশীল হওয়াটা একই সাথে জরুরি। প্রযুক্তি সহায়ক হতে পারে, কিন্তু আসল সমাধান আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ববোধ এবং প্রজ্ঞার উপরই নির্ভর করে।

পরিশেষে, আমাদের মনে রাখতে হবে যে, ভবিষ্যতের জন্য একটি সুস্থ ও নিরাপদ পৃথিবী নিশ্চিত করতে হলে আমাদের গভীর দায়িত্বশীলতা এবং নৈতিকতার সঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে। শুধু বৈজ্ঞানিক জ্ঞান নয়, মানবিকতা এবং ন্যায়বিচারও আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপের মূল ভিত্তি হওয়া উচিত। এই কঠিন সময়ে আমাদের সবাইকেই একত্রিত হয়ে কাজ করতে হবে, যাতে কোনো দেশ বা সম্প্রদায় যেন এই বৈশ্বিক সংকটের মুখে একা না থাকে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) 📖

প্র: জলবায়ু ভূ-প্রকৌশল (Climate Engineering) বলতে আসলে কী বোঝায়?

উ: প্রথম যখন ‘ক্লাইমেট ইঞ্জিনিয়ারিং’ শব্দটা শুনেছিলাম, আমার মনে হয়েছিল এটা বুঝি কোনো জাদুর কাঠি, যা দিয়ে এক নিমেষেই জলবায়ু পরিবর্তন ঠেকিয়ে দেওয়া যাবে। কিন্তু আসলে ব্যাপারটা এত সহজ নয়। সোজা কথায় বলতে গেলে, জলবায়ু ভূ-প্রকৌশল হলো পৃথিবীর জলবায়ু ব্যবস্থাকে ইচ্ছাকৃতভাবে পরিবর্তন করার জন্য কিছু বড় আকারের প্রযুক্তিগত কৌশল। এর মূল উদ্দেশ্য হলো বৈশ্বিক উষ্ণায়ন কমানো এবং এর ক্ষতিকর প্রভাবগুলো মোকাবিলা করা। যেমন, বিজ্ঞানীরা চেষ্টা করছেন সূর্যের আলো পৃথিবীতে আসতে না দিয়ে বা বায়ুমণ্ডল থেকে গ্রিনহাউস গ্যাস সরিয়ে ফেলে পৃথিবীকে ঠান্ডা রাখতে। এর মধ্যে সূর্য বিকিরণ ব্যবস্থাপনা (Solar Radiation Management) এবং গ্রিনহাউস গ্যাস অপসারণ (Greenhouse Gas Removal) প্রধান। আমার মনে হয়, এটা অনেকটা শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে গেলে ওষুধ খেয়ে কমানোর চেষ্টার মতো, যেখানে আসল রোগটা সারানোর চেষ্টা না করে শুধু উপসর্গ কমানো হচ্ছে।

প্র: জলবায়ু ভূ-প্রকৌশল কেন বৈশ্বিক ন্যায়বিচারের (Global Justice) একটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে?

উ: আমার কাছে এই প্রশ্নটা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়। বৈশ্বিক ন্যায়বিচার হলো জলবায়ু পরিবর্তনের সুবিধা এবং দায়িত্বের ন্যায্য বণ্টন। যখন বড় বড় দেশগুলো জলবায়ু ভূ-প্রকৌশল নিয়ে কথা বলে, তখন আমার ভেতরে একটা খচখচানি শুরু হয়। ধরুন, এই প্রযুক্তির খরচ অনেক বেশি, আর এর সিদ্ধান্ত নেবে কারা?
বেশিরভাগ সময় দেখা যায়, যে দেশগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী, তারাই এই ধরনের প্রযুক্তির উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে চায়। আর এর ফলস্বরূপ, যদি কোনো অপ্রত্যাশিত সমস্যা তৈরি হয়, তাহলে তার শিকার হতে হয় আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোকে, যারা এই পরিবর্তনের জন্য প্রায় কোনো অংশেই দায়ী নয়। এটা কি আসলে সুবিচার?
আমার মনে হয় না। বরং এর ফলে বৈষম্য আরও বাড়তে পারে। সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের মতো পরিবেশ উপদেষ্টারাও বলছেন, জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বৈশ্বিক আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা অপরিহার্য, কিন্তু ১০০ বিলিয়ন ডলারের জলবায়ু তহবিল নিয়েও এখনো অনেক ঘাটতি রয়েছে।

প্র: জলবায়ু ভূ-প্রকৌশল কি উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে?

উ: আমি যখন এই বিষয়টা নিয়ে ভাবি, তখন আমার নিজের দেশের কথা মনে পড়ে। বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। জলবায়ু ভূ-প্রকৌশল নিয়ে আমার সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো, এটি আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য নতুন এবং অপ্রত্যাশিত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। যদি এই প্রযুক্তির কোনো ভুল প্রয়োগ হয় বা এর অপ্রত্যাশিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়, তাহলে তার বোঝা আমাদেরকেই বইতে হবে। যেমন, কোনো একটি দেশ সূর্যের আলো কমানোর জন্য বায়ুমণ্ডলে কণা ছড়ালো, কিন্তু এর ফলে অন্য কোনো দেশে বৃষ্টিপাতের ধরনে বড় পরিবর্তন এলো, যা আমাদের কৃষিকে ধ্বংস করে দিল। এতে আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। উন্নত দেশগুলো তাদের নিজেদের সুবিধামতো এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাপমাত্রা কমালো, কিন্তু তার কারণে আমাদের মতো দেশগুলোতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ আরও বেড়ে যেতে পারে, যেমন বন্যা, খরা বা ঘূর্ণিঝড়। আমার মনে হয়, এই প্রযুক্তিগুলো প্রয়োগের আগে বৈশ্বিকভাবে একটি ন্যায্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থাকা অত্যন্ত জরুরি, যেখানে আমাদের মতো দেশগুলোর কণ্ঠস্বরও সমান গুরুত্ব পাবে। তা না হলে, এই ‘সমাধান’গুলোই আমাদের জন্য নতুন সমস্যার কারণ হবে।

প্র: জলবায়ু ভূ-প্রকৌশল (Climate Engineering) বলতে আসলে কী বোঝায়?

উ: প্রথম যখন ‘ক্লাইমেট ইঞ্জিনিয়ারিং’ শব্দটা শুনেছিলাম, আমার মনে হয়েছিল এটা বুঝি কোনো জাদুর কাঠি, যা দিয়ে এক নিমেষেই জলবায়ু পরিবর্তন ঠেকিয়ে দেওয়া যাবে। কিন্তু আসলে ব্যাপারটা এত সহজ নয়। সোজা কথায় বলতে গেলে, জলবায়ু ভূ-প্রকৌশল হলো পৃথিবীর জলবায়ু ব্যবস্থাকে ইচ্ছাকৃতভাবে পরিবর্তন করার জন্য কিছু বড় আকারের প্রযুক্তিগত কৌশল। এর মূল উদ্দেশ্য হলো বৈশ্বিক উষ্ণায়ন কমানো এবং এর ক্ষতিকর প্রভাবগুলো মোকাবিলা করা। যেমন, বিজ্ঞানীরা চেষ্টা করছেন সূর্যের আলো পৃথিবীতে আসতে না দিয়ে বা বায়ুমণ্ডল থেকে গ্রিনহাউস গ্যাস সরিয়ে ফেলে পৃথিবীকে ঠান্ডা রাখতে। এর মধ্যে সূর্য বিকিরণ ব্যবস্থাপনা (Solar Radiation Management) এবং গ্রিনহাউস গ্যাস অপসারণ (Greenhouse Gas Removal) প্রধান। আমার মনে হয়, এটা অনেকটা শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে গেলে ওষুধ খেয়ে কমানোর চেষ্টার মতো, যেখানে আসল রোগটা সারানোর চেষ্টা না করে শুধু উপসর্গ কমানো হচ্ছে।

প্র: জলবায়ু ভূ-প্রকৌশল কেন বৈশ্বিক ন্যায়বিচারের (Global Justice) একটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে?

উ: আমার কাছে এই প্রশ্নটা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়। বৈশ্বিক ন্যায়বিচার হলো জলবায়ু পরিবর্তনের সুবিধা এবং দায়িত্বের ন্যায্য বণ্টন। যখন বড় বড় দেশগুলো জলবায়ু ভূ-প্রকৌশল নিয়ে কথা বলে, তখন আমার ভেতরে একটা খচখচানি শুরু হয়। ধরুন, এই প্রযুক্তির খরচ অনেক বেশি, আর এর সিদ্ধান্ত নেবে কারা?
বেশিরভাগ সময় দেখা যায়, যে দেশগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী, তারাই এই ধরনের প্রযুক্তির উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে চায়। আর এর ফলস্বরূপ, যদি কোনো অপ্রত্যাশিত সমস্যা তৈরি হয়, তাহলে তার শিকার হতে হয় আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোকে, যারা এই পরিবর্তনের জন্য প্রায় কোনো অংশেই দায়ী নয়। এটা কি আসলে সুবিচার?
আমার মনে হয় না। বরং এর ফলে বৈষম্য আরও বাড়তে পারে। সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের মতো পরিবেশ উপদেষ্টারাও বলছেন, জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বৈশ্বিক আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা অপরিহার্য, কিন্তু ১০০ বিলিয়ন ডলারের জলবায়ু তহবিল নিয়েও এখনো অনেক ঘাটতি রয়েছে।

প্র: জলবায়ু ভূ-প্রকৌশল কি উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে?

উ: আমি যখন এই বিষয়টা নিয়ে ভাবি, তখন আমার নিজের দেশের কথা মনে পড়ে। বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। জলবায়ু ভূ-প্রকৌশল নিয়ে আমার সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো, এটি আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য নতুন এবং অপ্রত্যাশিত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। যদি এই প্রযুক্তির কোনো ভুল প্রয়োগ হয় বা এর অপ্রত্যাশিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়, তাহলে তার বোঝা আমাদেরকেই বইতে হবে। যেমন, কোনো একটি দেশ সূর্যের আলো কমানোর জন্য বায়ুমণ্ডলে কণা ছড়ালো, কিন্তু এর ফলে অন্য কোনো দেশে বৃষ্টিপাতের ধরনে বড় পরিবর্তন এলো, যা আমাদের কৃষিকে ধ্বংস করে দিল। এতে আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। উন্নত দেশগুলো তাদের নিজেদের সুবিধামতো এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাপমাত্রা কমালো, কিন্তু তার কারণে আমাদের মতো দেশগুলোতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ আরও বেড়ে যেতে পারে, যেমন বন্যা, খরা বা ঘূর্ণিঝড়। আমার মনে হয়, এই প্রযুক্তিগুলো প্রয়োগের আগে বৈশ্বিকভাবে একটি ন্যায্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থাকা অত্যন্ত জরুরি, যেখানে আমাদের মতো দেশগুলোর কণ্ঠস্বরও সমান গুরুত্ব পাবে। তা না হলে, এই ‘সমাধান’গুলোই আমাদের জন্য নতুন সমস্যার কারণ হবে।

📚 তথ্যসূত্র

Advertisement